সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালায় গলতে থাকা ট্রিফট হিমবাহ (Trift Glacier) থেকে ৩৪ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া দুই বেলজিয়ান পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার স্থানীয় পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ২৬ জুলাই ইতালি সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সুইজারল্যান্ডের ওয়ালিস ক্যান্টনের ওই হিমবাহে এক হাইকার প্রথম মরদেহ দুটি দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। এরপর মরদেহগুলো শনাক্তকরণের জন্য সিয়নের ওয়ালিস হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অফ ফরেনসিক মেডিসিনে পাঠানো হয়। ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ১৯৯২ সালে ওয়াইসমিজ (Weissmies) অঞ্চলে নিখোঁজ হওয়া দুই বেলজিয়ান পর্বতারোহীই ছিলেন তারা। নিখোঁজ হওয়ার সময় এই দুই বেলজিয়ান নাগরিকের বয়স ছিল যথাক্রমে ৩৯ ও ৪১ বছর।
ওয়ালিস পুলিশ জানিয়েছে, ১৯২৫ সাল থেকে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল ও নদীতে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের একটি তালিকা তারা সংরক্ষণ করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে কয়েক দশক আগে নিখোঁজ হওয়া মানুষের মরদেহ বা দেহাবশেষ এখন প্রায়ই বরফ গলে বেরিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল্পস ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের গলতে থাকা হিমবাহ থেকে এমন বেশ কিছু নিখোঁজ মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বছর ওয়ালিসের ওবের গ্যাবেলহর্ন (Ober Gabelhorn) পর্বতের একটি হিমবাহে ১৯৯৪ সালে নিখোঁজ হওয়া এক সুইস পর্বতারোহীর হাড়গোড় পাওয়া যায়। ২০১৫ সালের আগস্টে অ্যান্টার্কটিকার কিং জর্জ দ্বীপে ১৯৫৯ সালে নিখোঁজ হওয়া এক ব্রিটিশ গবেষকের দেহাবশেষ এবং একই সময়ে পাকিস্তানে একটি গলতে থাকা হিমবাহ থেকে ২৮ বছর আগে নিখোঁজ এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেরুর একটি তুষারাবৃত পর্বত থেকে ২২ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন পর্বতারোহীর মরদেহ এবং তার আগের বছর সুইজারল্যান্ডের আল্পসে ১৯৮৬ সাল থেকে নিখোঁজ এক জার্মান পর্বতারোহীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ২০১৭ সালেও মন্ট ব্ল্যাঙ্কের দক্ষিণ পাশে ১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকের নিখোঁজ পর্বতারোহীদের দেহাবশেষ এবং সুইজারল্যান্ডে ১৯৪২ সাল থেকে নিখোঁজ এক দম্পতির হিমায়িত মরদেহ ও ১৯৭১ সালে নিখোঁজ এক ব্রিটিশ পর্বতারোহীর দেহাবশেষ উন্মোচিত হয়েছিল।
































