মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাঞ্চলে একটি স্বর্ণের খনি ধসে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ ছাড়িয়েছে। বুধবার উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রেড ক্রসের এক স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত মঙ্গলবার সকালে ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে নানা-মাম্বেরে প্রিফেকচারের জাম্বোয়ে গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধারকাজে যুক্ত থাকা রেড ক্রসের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক জার্ভিস গানাগোরোহ জানান, খনি ধসের ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। জাম্বোয়ে যুব কাউন্সিলের সদস্য বার্ট্রান্ড বে ইয়াঙ্গুয়ে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে আছেন এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা খুবই ক্ষীণ উল্লেখ করে ইয়াঙ্গুয়ে বলেন, "তাদের জীবিত খুঁজে পাওয়াটা অলৌকিক কিছু হবে।" তিনি আরও বলেন, "পরিবারকে চরম অভাব-অনটন থেকে বাঁচাতে এসে যেভাবে তরুণ-তরুণীরা খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন, তা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে।"
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, হতাহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং খনিটি পরিচালনার দায়িত্বে কারা ছিলেন তা নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। বাবোয়া সাব-প্রিফেকচার আদালতের প্রসিকিউটর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোনো ফৌজদারি দায় রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে।
দুর্ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কাদামাখা শরীরে মূলত তরুণ খনি শ্রমিকরা গর্ত থেকে একটি মরদেহ টেনে তুলছেন। বিশাল খনি এলাকার চারপাশ জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অন্য শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেককেই সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখা যায়।
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এ ধরনের সনাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ খনি ধসের ঘটনা খুবই সাধারণ। দেশটির হাজার হাজার মানুষ ক্ষুদ্র পরিসরে খনি থেকে সম্পদ উত্তোলনের কাজ করেন। পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকরা অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করায় প্রায়শই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।































