মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি চলতি বছরই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসার আশা করছেন। হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, "হ্যাঁ, আমি বৈঠকে বসব।" এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প শিগগিরই এই ধরনের একটি বৈঠকের আয়োজন করতে চান, যা সম্ভবত আগামী নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাপেক (APEC) সম্মেলনের সময় হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস বা পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখনও এই বৈঠকের পরিকল্পনা নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অ্যাপেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং কিম যেন তার দেশের পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ করেন, সেই লক্ষ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে তিনি ইতিমধ্যেই তার সহযোগীদের উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দুই নেতা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে তিনবার বৈঠক করলেও তাতে দৃশ্যত কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। এর পর থেকে উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দেশটির কাছে এখন বহু পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ট্রাম্প বুধবার দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র রয়েছে।
কিমের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, "তার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আর ভালো সম্পর্ক থাকাটা কোনো খারাপ বিষয় নয়। তার কাছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। এটা কখনোই হতে দেওয়া উচিত হয়নি। আমি প্রেসিডেন্ট থাকলে এটা হতে দিতাম না। তবে এখন অস্ত্রগুলো তার কাছে আছে।" তবে পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগের কোনো লক্ষণ না দেখিয়ে কিম চান যে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উত্তর কোরিয়াকে একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিক। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের শর্তে যেকোনো ধরনের আলোচনা তিনি আগেই নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প অবশ্য আশাবাদী হয়ে বলেছেন, তিনি কিমকে ভালোভাবেই চেনেন এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়ে যাবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান যৌথ সামরিক মহড়ায় মার্কিন সেনা কমানোর সিদ্ধান্তের পরই ট্রাম্প কিমের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরুর এই চেষ্টা করছেন। কিমের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণেই বার্ষিক 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' মহড়া কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। এই মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি "অনুপযুক্ত এবং শত্রুতামূলক বার্তা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। এছাড়া ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাধারণত ১০ দিনব্যাপী চলা এই মহড়াটি ট্রাম্পের নির্দেশে এবার অর্ধেক সময় কমিয়ে আনা হয়েছে, যা শুক্রবার শেষ হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘ ৭০ বছরের মিত্রতা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো, বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উদ্বেগের মধ্যে পড়েছে। উত্তর কোরিয়া বা চীন কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে দেশ দুটির কর্মকর্তারা গোপনে প্রশ্ন তুলছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ সামরিক স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দ্রুত পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন অর্জনের ওপর জোর দিচ্ছেন। অন্যদিকে, পূর্বপরিকল্পিত সফরে বুধবার সিউলে পৌঁছেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন চো হিউন।































