কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে সমপরিমাণ বা 'ডলারের বিপরীতে ডলার' হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। শুক্রবার রাতে আলোচনার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী কার্নি সমস্ত আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেন এবং কানাডীয় প্রতিনিধিদের অটোয়াতে ফিরে আসার নির্দেশ দেন।
গত জুলাই মাস থেকে উভয় দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তীব্র আলোচনায় লিপ্ত ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার) কানাডীয় আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। সেই হুমকির প্রেক্ষিতেই এই নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্ট ব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলে কানাডার ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক এবং হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক কার্যকর হলো। এর আগে থেকেই ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি এবং কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বলবৎ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে কানাডার বৃহত্তম প্রদেশ অন্টারিও-এর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শুল্কের বিপরীতে শুল্ক এবং ডলারের বিপরীতে ডলারের এই লড়াইয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশেই আছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কাছে বেশ কিছু ছাড় দাবি করে আসছিল। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন অটোমোবাইল পণ্যের ওপর থেকে কানাডার অবশিষ্ট প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা, মার্কিন পনির উৎপাদনকারীদের জন্য দুগ্ধ কোটা বাড়ানো এবং মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রির ওপর গত বছর কানাডার প্রদেশগুলোর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
এই বাণিজ্য বিরোধের জেরে উভয় দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউএস চেম্বার অফ কমার্স। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, উচ্চ শুল্ক মার্কিন পরিবারগুলোর খরচ বাড়িয়ে দেবে, সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করবে এবং 'ইউএস-মেক্সিকো-কানাডা ট্রেড এগ্রিমেন্ট'-এর অধীনে থাকা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন কর্মসংস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। কানাডীয় সংস্থা অ্যাবাকাস ডেটার সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩৬ শতাংশ কানাডীয় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে, অন্যদিকে ৩০ শতাংশ মানুষ আলোচনার ধারা বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই এই পাল্টা শুল্ক সহ্য করবে না এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।





























