যুক্তরাষ্ট্রের 'সেন্টার্স ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস' (সিএমএস)-এর প্রশাসক ড. মেহমেত ওজ সিবিএস নিউজের 'ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান' অনুষ্ঠানে মার্কিন স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ, ওষুধের ক্রমবর্ধমান দাম এবং ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে আলোচনা হয়। ড. ওজ জানান, জুলাই মাসের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) অনুযায়ী ওষুধে ৩.১ শতাংশ বার্ষিক মূল্য হ্রাস ঘটেছে। বিশেষ করে জিএলপি-১ (GLP-1) বা ওজন কমানোর ওষুধ (যাকে প্রেসিডেন্ট 'ফ্যাট শট' বলে থাকেন) এখন যোগ্য মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য প্রতি মাসে মাত্র ৫০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে ১,০০০ ডলারের বেশি ছিল। তিনি রসিকতা করে বলেন, এই ওষুধের শীর্ষ গ্রাহক এলাকা হলো ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইড, যেখানে ধনী ব্যক্তিরা হ্যাম্পটনে যাওয়ার আগে সুন্দর দেখানোর জন্য এটি ব্যবহার করেন। তবে এখন সাধারণ ও ওজনদার প্রবীণরাও এটি সহজে কিনতে পারছেন। এছাড়া বন্ধ্যাত্বের ওষুধের দামও ৯০ শতাংশ কমেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ট্রাম্পআরএক্স ডটকম (TrumpRX.gov)-এর 'মোস্ট-ফেভারড-ন্যাশন' নীতির আওতায় নতুন সব ওষুধের দাম আরও কমবে।
জো বাইডেন প্রশাসনের ২০২২ সালের একটি আইনের (ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট বা আইআরএ) কার্যকারিতা স্বীকার করে ড. ওজ বলেন, এই আইনটি মেডিকেয়ারকে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের সাথে দর কষাকষির সুযোগ করে দিয়েছিল। যদিও শুরুতে এটি খুব একটা কার্যকর ছিল না, তবে গত বছর সিএমএস আক্রমণাত্মকভাবে দর কষাকষি করায় জনগণের দ্বিগুণ সাশ্রয় হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওষুধের দাম কমানো একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং তারা সব ধরনের আইনি হাতিয়ার ব্যবহার করে এটি বজায় রাখবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণের মধ্যে মেডিকেয়ার ট্রাস্টিদের আশঙ্কা, আগামী সাত বছরের মধ্যে এই তহবিল দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে এবং তখন পেমেন্ট ১১ শতাংশ হ্রাস পাবে। এই সংকট মোকাবেলায় ড. ওজ 'গ্রেট আমেরিকান হেলথ অ্যাক্ট' প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি দাবি করেন, মেডিকেয়ারে জালিয়াতি রোধ করা গেলে এই তহবিলের মেয়াদ দ্বিগুণ করা সম্ভব। গত বছর সিএমএস জালিয়াতি ঠেকিয়ে ৪২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে, যেখানে মেডিকেয়ারের পেছনে সরকারের মোট ব্যয় ছিল ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার। ড. ওজ আরও জানান, দেশব্যাপী টেকসই চিকিৎসা সরঞ্জামের (ডিউরেবল মেডিকেল ইকুইপমেন্ট) জালিয়াতি বন্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ড. ওজ বলেন, বর্তমানে ৫০ শতাংশ চিকিৎসক প্রশাসনিক চাপ কমাতে এবং রোগীদের উন্নত পরামর্শ দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছেন। সিএমএস-এর অধীনে অ্যামি গ্লিসনের নেতৃত্বে একটি হেলথ টেক ইকোসিস্টেম তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০০টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, আগে কোম্পানিগুলো তথ্য আটকে রেখে ব্যবসা করলেও এখন রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রোগীদের নিজস্ব মেডিকেল রেকর্ড পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কিত বিষয়ে কথা বলেন ওজ। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) ভ্যাকসিনকে 'মারাত্মক ক্ষতিকর' বা 'লিজাল' হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং তা আলাদা সময়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে ড. ওজ স্পষ্ট করে বলেন, "না, এমএমআর কোনো মারাত্মক ক্ষতিকর ভ্যাকসিন নয়।" তবে তিনি যোগ করেন যে, জাপানের মতো কিছু দেশে এই ভ্যাকসিনগুলো আলাদাভাবে দেওয়া হয়। ওজ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাকসিন নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের স্বাধীন সিদ্ধান্তের অধিকারের ওপর জোর দেন। তিনি কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার কড়াকড়ির সমালোচনা করে বলেন, অভিভাবকদের ভ্যাকসিন বিলম্বিত করার বা প্রশ্ন তোলার অধিকার থাকা উচিত।































