মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক অস্থিরতা কাটিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ভ্রমণ ও পর্যটন চাহিদা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে এই অঞ্চলে আসার ক্ষেত্রে এখনো কিছুটা দ্বিধা রয়েছে, তবে জিসিসি (GCC) দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা দ্রুত প্রাক-যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ফিরে যাচ্ছে বলে ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের তথ্য থেকে জানা গেছে।
পিনয় ট্যুরিজমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন নাসির জানান, যদিও ভ্রমণ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তবে প্রতি সপ্তাহেই এই ব্যবধান কমে আসছে। তিনি বলেন, জিসিসি ভ্রমণ বাজারটি বেশ স্থিতিস্থাপক এবং অনেকের প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। মানুষের ভ্রমণের আগ্রহ হারিয়ে যায়নি, বরং পরিস্থিতির কারণে অনেকে পরিকল্পনা স্থগিত করেছিলেন, যা এখন আবার বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মুসাফির ডটকমের অপারেশনস ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশিদা জাহিদ জানান, বর্তমানে বিনোদনমূলক ভ্রমণ এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করার হার প্রাক-যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রায় ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, তাদের প্ল্যাটফর্মে বুকিংয়ের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও আগে বাড়ছে, যা পর্যটন খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসারই ইঙ্গিত দেয়।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে শীতকালীন পর্যটন মৌসুমে জিসিসি অঞ্চলে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। জিওফ ট্রাভেলের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জিওফ্রে সালাতান উল্লেখ করেন যে, পর্যটকরা এখন তুলনামূলক ছোট ও সুবিধাজনক ভ্রমণের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে আঞ্চলিক ভ্রমণ দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে।
পর্যটন খাতের এই পুনরুদ্ধারের তালিকায় বিনোদনমূলক ভ্রমণের ক্ষেত্রে সালালাহ শীর্ষে রয়েছে এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রে রিয়াদ আধিপত্য বজায় রেখেছে। অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ফ্লাইট স্থগিত রাখায় কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও, বছরের শেষ প্রান্তিকে পর্যটন খাত আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যাভেন্ডিশ ম্যাক্সওয়েলের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথমার্ধে আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে হোটেলগুলোতে বুকিং প্রায় ৩০.৩ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে আগামী চার মাসের মধ্যে হোটেলগুলোর কক্ষ দখলের হার ৬০ থেকে ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইমতিয়াজ হোসেন নাসির আরও জানান, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ভ্রমণকারীদের মধ্যে যে সতর্কতা ছিল তা এখন কাটতে শুরু করেছে। বর্তমানে নতুন অনুসন্ধান এবং নিশ্চিত বুকিংয়ের সংখ্যা বাড়ছে, যা বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট লক্ষণ।
মুসাফির ডটকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বছরের বাকি সময়ের জন্য বুকিংয়ের আগ্রহ বেশ জোরালো। বিশেষ করে গ্রীষ্মের ছুটির পর করপোরেট কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হওয়ায় পর্যটন খাতে বড় ধরনের গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় যুদ্ধের শুরুতে তাদের আতিথেয়তা খাত বেশ চাপের মুখে পড়েছিল। তবে বছরের দ্বিতীয় ভাগে এসে এই খাতে যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি আশাব্যঞ্জক সংকেত।
সূত্র: খালিজ টাইমস































