ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পোমাস গ্রামে আঘাত হেনেছে একটি শক্তিশালী টর্নেডো। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন এবং শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘর ভেঙে পড়ার কারণে এক গর্ভবতী নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।
কারকাসোনের দক্ষিণে অবস্থিত এই গ্রামটিতে ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার (৭৩ মাইল) বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়া বাড়িঘরের ছাদ উড়িয়ে নিয়ে যায়। টর্নেডোর আঘাতে প্রায় ৩০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতায় ১২০ জনেরও বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পিয়েরে নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা এই দুর্যোগের বর্ণনা দিয়ে বলেন, "গ্রামের অর্ধেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।" তার ভাষ্যমতে, টর্নেডোটি একটি "বিশাল লাল ও হলুদ চিমনির" মতো ঘুরছিল। তিনি স্থানীয় গণমাধ্যম ইসি ওসিতানিকে আরও জানান, সেখানে থাকা একটি বিশাল দুর্গের এক-তৃতীয়াংশ ধসে পড়েছে, যদিও দুর্গের পাথরগুলো প্রায় ১,০০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে ছিল।
এই চরম আবহাওয়ার কারণে ১০টি গ্রামের প্রায় ২,৮০০টি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ওদ এলাকায় চলমান 'ভুয়েলতা আ এস্পানিয়া' সাইকেল রেসের তৃতীয় ধাপ বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকরা। ফিনিশ লাইনের প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে শিলাবৃষ্টি শুরু হলে সাইক্লিস্টরা একটি হোটেলে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় সাব-প্রিফেক্ট ইমানুয়েল প্ল্যান্টিয়ার-লেমারচ্যান্ড ফরাসি রেডিওকে জানিয়েছেন যে, নিখোঁজ থাকার মতো কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি পূর্বে আহত ৪১ জনের কথা বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৩৯ জন বলে নিশ্চিত করেন। চ্যান্টাল নামে আরেক আতঙ্কিত বাসিন্দা বলেন, "আমি বিকট শব্দ শুনতে পাই… তারপর দেখি সবকিছু বাতাসে উড়ছে এবং আমার মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ছে। আমার আর কোনো ঘর অবশিষ্ট নেই। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম এটাই আমার শেষ সময়।"
টর্নেডোর প্রভাবে বোর্দো, মার্সেই, নিস, তুলুজ এবং প্যারিসের উত্তরাঞ্চলীয় বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বিলম্ব এবং বাতিলের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহন মন্ত্রী ফিলিপ তাবারো। ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা 'মেতেও-ফ্রান্স' জানিয়েছে, ফ্রান্সে প্রতি বছর সাধারণত কয়েক ডজন টর্নেডো আঘাত হানে। তবে এবারের এই ঝড়টি এসেছে ইউরোপের নজিরবিহীন তীব্র দাবদাহ ও দাবানলের গ্রীষ্মের পর। দাবানলে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম বৃহৎ বন আগুনে প্রায় ৪২,০০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তীব্র দাবদাহের সময় ফ্রান্সে ২,০২৫ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল।
































