সুইজারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে একটি রেভ পার্টিতে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর হামলাকারীকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং একজন নারী রয়েছেন, যাদের বয়স ২৪ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। তাদের সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীনদের আঘাতের মাত্রা মৃদু থেকে গুরুতর বলে জানা গেছে।
জুরিখের কাছে আরাও (Aarau) এলাকার একটি ঘোড়দৌড়ের মাঠে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে শনিবার রাত থেকে শুরু করে রবিবার ভোর পর্যন্ত একটি রেভ পার্টি (গান-বাজনার উৎসব) চলছিল। স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে (জিএমটি ০১:৩০) পুলিশ প্রথম এই গোলাগুলির খবর পায়।
ঘটনার পর আরাও এবং এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বন্দুকধারীর পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। আরাও এলাকার ঘোড়দৌড়ের মাঠ, সুইমিং পুল এবং ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরগাউ ক্যান্টনাল পুলিশ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরাও শহরের বাইরেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (১৮ মাইল) দূরের মহাসড়কেও সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখেছেন। এছাড়া একটি সাঁজোয়া যান দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়েছে এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রক পোশাকে পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
আঞ্চলিক দুর্যোগ মোকাবেলা ইউনিট (কেকেই) এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসআরএফ। ভোরের দিকে সুইস সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার দিয়েও আকাশপথে নজরদারি চালানো হয়েছে।
ওই রেভ পার্টিতে পারফর্ম করা সুইস ডিজে তেকিবো (Tekibo) ইনস্টাগ্রামে এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, "আমি আমার একজন অত্যন্ত প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছি। কী ঘটে গেল তা আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।"
পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ওই সময়ের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, আরাও শহরটি জুরিখ থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এবং এখানে প্রায় ২৩ হাজার মানুষের বসবাস। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় সুইজারল্যান্ডে বন্দুকের মালিকানার হার বেশি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঠোর নিয়ম চালুর কারণে সেখানে এ ধরনের সহিংস গোলাগুলির ঘটনা বেশ বিরল।




























