যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি তেল ট্যাঙ্কার ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজকে ‘স্থায়ীভাবে অকেজো’ এবং ওমান উপসাগরে থাকা তৃতীয়টিকে ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করা হয়েছে। খারাগ দ্বীপের কাছে থাকা একটি ট্যাঙ্কারও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল; উল্লেখ্য, খারাগ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল এবং দেশটির প্রায় ৯০% অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই রপ্তানি হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই জাহাজগুলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়নকারী একটি বিশাল নেটওয়ার্কের অংশ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, খারাগ দ্বীপের কাছে মার্কিন হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া ওমান উপসাগরে আক্রান্ত দুটি ট্যাঙ্কারের নাবিকদের লাইফবোটের মাধ্যমে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম ইরানের ওপর ব্যাপকভিত্তিক হামলা শুরু করে, যার জবাবে ইরান ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং হরমুজ প্রণালীকে সামুদ্রিক চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ছয়টি জাহাজে হামলা চালায়। এর মধ্যে তিনটি তেল ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালীতে এবং অন্য তিনটি জাহাজ বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছে তেহরান। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেলবাহী রুট, যা বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বহন করে।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন হামলার আগে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে আইআরজিসি হামলা চালিয়েছিল। তবে মার্কিন বাহিনী সেই আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং কোনো মার্কিন সৈন্য হতাহত হয়নি। হরমুজ প্রণালী বর্তমানে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুদ্ধের শুরু থেকেই এটি বন্ধ রয়েছে। ইরান এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে অনড়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে অভিহিত করলেও, চলমান এই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতার প্রচেষ্টাকে বাধা দিতে দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালিয়েছিল। এদিকে, গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চারজন নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এ ঘটনাকে তারা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ঘটনার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে পড়তে শুরু করেছে; শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫.৮৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩.৭১ ডলার।





























