বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের স্বত্ব বা শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর নিজেকে অপরাজেয় মনে করা ইনফান্তিনো এখন নিজ সংগঠনের ভেতরেই নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছেন। শনিবার ভোরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই পরিকল্পনা বাতিল করার ঘোষণা দেন।
ইনফান্তিনোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল উয়েফা ও কনকাকাফের মতো শক্তিশালী ফুটবল ফেডারেশনগুলোর সম্মিলিত বিরোধিতা। উয়েফার পক্ষ থেকে সরাসরি বয়কটের হুমকি দেওয়ার পর এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং কনকাকাফও তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। যদি ভোট হতো, তবে প্রায় ১৫০টি সদস্য দেশের সম্মিলিত ভোট ইনফান্তিনোর পরাজয় নিশ্চিত করত। এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি এড়াতে তিনি পিছু হটতে বাধ্য হন।
ফিফার শীর্ষ পর্যায়েও তার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। শুক্রবার তার দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা ও ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তি কার্লোস করডেইরো পদত্যাগ করেছেন। ফুটবলে ৩৫ বছরের বেশি সময় কাটানো করডেইরো তার পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট করেছেন যে, ফুটবলের মতো সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। এছাড়া কনকাকাফের ৪১টি সদস্য দেশের অধিকাংশ সদস্যই ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপে সমর্থন পাওয়ার বিনিময়ে ছোট দেশগুলোকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন ইনফান্তিনো, যা প্রত্যাখ্যান করলে তারা মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ত। সমালোচকদের দৃষ্টিতে এটি ছিল ফুটবলের চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থকে বড় করে দেখার নামান্তর। উয়েফা তার এই কর্মকাণ্ডকে কেবল নেতৃত্বের ব্যর্থতা নয়, বরং ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা বলে অভিহিত করেছে।
বর্তমানে ইনফান্তিনোর এই অবস্থানকে অনেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতির সাথে তুলনা করছেন, যেখানে ভুল স্বীকার না করে বরং নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এমনকি ২০৩২ সালের বদলে ২০৩৪ সালের সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে পাওয়া সমর্থন নিয়েও তিনি এখন সংকটে। ৬৪ বছর বয়সী ইনফান্তিনো কি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। সমালোচকরা মনে করছেন, ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা ফেরাতে ইনফান্তিনোর সরে যাওয়া সময়ের দাবি। উয়েফার আলেকজান্ডার সেফেরিন, প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফি এবং নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লিস ক্লাভেনেসের মতো ব্যক্তিত্বদের তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।































