দ্য হান্ড্রেড ২০২৬ আসরের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন রশিদ খান। আফগান এই লেগস্পিনারের ঘূর্ণি জাদুর সঙ্গে উইল জ্যাকস ও নিকোলাস পুরানের জোড়া অর্ধশতকে ভর করে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসকে ৪৫ রানে হারিয়েছে এমআই লন্ডন। ওভালে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান তোলে এমআই লন্ডন, যা টুর্নামেন্টে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে রশিদের ১৭ রানে ৫ উইকেটের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৩৮ রানেই গুটিয়ে যায় ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এমআই লন্ডন।
রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিল সুপার জায়ান্টস। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৩০ বলে ৫৯ রান তোলেন দুই ওপেনার। যার সিংহভাগ রানই আসে এইডেন মারক্রামের ব্যাট থেকে। ২৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে মারক্রাম যখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখনই রশিদ খানের স্পিন আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় ম্যানচেস্টারের ইনিংস। রশিদ প্রথমে বোল্ড করেন টিম সাইফার্টকে, এরপর ফিরিয়ে দেন বিপজ্জনক জস বাটলারকেও। ডিপ মিডউইকেট সীমানায় বাটলারের চমৎকার ক্যাচটি লুফে নেন নাথান সউটার। কিছুক্ষণ পর মারক্রামকেও ব্যক্তিগত ৫০ রানে বিদায় করেন সউটার, যার ফলে ৭৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সুপার জায়ান্টস।
এরপর লিউস ডু প্লয় ও হেনরিখ ক্লাসেন দলকে ১০০ পার করালেও প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ক্লাসেন রশিদের বলে একটি ছক্কা মারার পর স্যাম কারানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। একই ওভারে রশিদ তুলে নেন টম মুরসের উইকেটও। এরপর লিয়াম ডসনকেও সাজঘরের পথ দেখিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই আফগান স্পিনার। ১০৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ম্যানচেস্টারের বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নেন পেসাররা। টম কারান শিকার করেন দুটি উইকেট, আর রিচার্ড গ্লিসন ও ট্রেন্ট বোল্ট নেন একটি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৯৫ বলে ১৩৮ রানেই শেষ হয় সুপার জায়ান্টসের ইনিংস।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে এমআই লন্ডনের শুরুটা ছিল ঝোড়ো। অধিনায়ক জেমস ভিন্সের সঙ্গে উইল জ্যাকসের উদ্বোধনী জুটিতে ৪২ বলে আসে ৭১ রান। ডসন ভিন্সকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙলে উইকেটে আসেন নিকোলাস পুরান। এসেই হাত খোলা শুরু করেন এই ক্যারিবিয়ান তারকা। অন্যদিকে নূর আহমেদের বলে ছক্কা মেরে মাত্র ২৮ বলে নিজের ফিফটি পূরণ করেন জ্যাকস। পরে আরও একটি ছক্কা ও চার মেরে নূরের বলেই আউট হন তিনি (৩১ বলে ৬২ রান)। ৭০ বল শেষে ২ উইকেটে ১২১ রান করা এমআই লন্ডন শেষ ৩০ বলে তোলে আরও ৬২ রান। স্যাম কারান স্যাম অ্যাটকিনসনকে দুটি ছক্কা মারেন, আর পুরান চড়াও হন সনি বেকারের ওপর। কারান ১১ বলে ২৩ রান করে নূরের শিকার হলেও পুরান তাণ্ডব অব্যাহত রাখেন। অ্যাটকিনসনের এক ওভারে টানা চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে ২৫ বলে অর্ধশতক স্পর্শ করেন তিনি।
শেষ ১০ বলে ১৭৪ রান নিয়ে ২০০ পার করার পথে ছিল এমআই লন্ডন। তবে ডেথ ওভারে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সুপার জায়ান্টসের বোলাররা। শেষ ১০ বলে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেয় তারা। জশ টাং ২০ বলে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন, যেখানে তিনি তার শেষ ওভারে পুরান (২৮ বলে ৫৪ রান) ও শেরফেন রাদারফোর্ডকে আউট করেন। ইনিংসের শেষ বলে টম কারানকে বিদায় করেন সনি বেকার। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১০০ বলে ১৮৩ রানে থামে এমআই লন্ডনের ইনিংস।





























