দৌড়ানোর জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে। স্ট্রাভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সামাজিক দৌড় বা রানিং ক্লাবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া লন্ডন ম্যারাথনে আবেদন ২০২৪ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ এবং নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যারাথনে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পোর্টস অ্যান্ড ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন মানুষ নিয়মিত ট্রেডমিলে দৌড়ান এবং ৫১ মিলিয়ন মানুষ জগিং করেন। তবে দৌড়ানো অনেকের জয়েন্টের জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে।
এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন স্পোর্টস মেডিসিন সেন্টারের বিশেষজ্ঞ লরেন বোরোস্কির মতে, দৌড়ানোর সময় হাঁটু, হিপ, গোড়ালি, পায়ের পাতা এবং কোমরের নিচের অংশে ব্যথা হওয়া খুব সাধারণ। দৌড়ানোর প্রতিটি ধাপে শরীরের ওজনের তিন থেকে চার গুণ চাপ জয়েন্টের ওপর পড়ে। যখন পেশিগুলো এই বাড়তি চাপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না, তখন তা সরাসরি হাড় ও কার্টিলেজে আঘাত করে। গুড রেপস ফিজিক্যাল থেরাপির ডা. এম ক্লেয়ার কুপস-মেসকে জানান, মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়া, হ্যামস্ট্রিং টান, শিন স্প্লিন্ট বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যায় দৌড়ানো বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন অ্যালেক্সিস কোলভিন পরামর্শ দেন, যদি হাঁটুতে ফোলা থাকে বা ব্যথা নিয়মিত হয় এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জয়েন্টের স্বাস্থ্যের জন্য নড়াচড়া বা মুভমেন্ট জরুরি, কারণ এটি জয়েন্টের ভেতরে লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারী তরল তৈরিতে সাহায্য করে। দৌড়ানোর বিকল্প হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ছয়টি ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন: সাইক্লিং, যা জয়েন্টের রেঞ্জ অব মোশন বাড়ায়; রোয়িং, যা পুরো শরীরের ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে; সাঁতার, যা হাড়ের ওপর চাপ না ফেলে হৃদপিণ্ডের সক্ষমতা বাড়ায়; ইনক্লাইন ওয়াকিং বা ঢালু পথে হাঁটা, যা জয়েন্টে চাপ কমিয়ে হৃদস্পন্দন বাড়ায়; এবং রোলারব্লেডিং, আইস স্কেটিং বা ক্রস-কান্ট্রি স্কিইং, যা গোড়ালিতে বাড়তি সাপোর্ট দেয়। এছাড়া নাচ বা জুম্বার মতো ব্যায়ামগুলোও কার্ডিও হিসেবে দারুণ, তবে লাফানোর সময় সাবধান থাকতে হবে। ব্যায়ামের ক্ষেত্রে পেশির শক্তি, হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের কার্যকারিতা, ভারসাম্য এবং নমনীয়তা—এই চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।































