ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে মধ্যরাতের পর রাশিয়ার চালানো এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর এই হামলায় শহরের একটি ২০ তলা আবাসিক ভবনে আগুন ধরে গেছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, শহরের অন্তত দুটি জেলায় গুদামঘরগুলোতেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সতর্কবার্তায় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার বিপদ এখনও কাটেনি। মেয়র ক্লিচকো আরও জানান, শহরের উত্তরাঞ্চলীয় একটি এলাকায় হামলার স্থানে জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি রুশ এই আক্রমণ প্রতিহত করতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুটি ভিন্ন দিক থেকে কিয়েভ লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন তার আকাশসীমা সুরক্ষায় মিত্র দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে রাশিয়া আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বর্তমানে হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অভাবে রাশিয়া এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে। গত মঙ্গলবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির লাইসেন্সের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।






























