তুরস্কের নাগরিকত্ব বিনিয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ৬ হাজার ১৩৪ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুয়া সম্পত্তি মূল্যায়ন, জাল লেনদেন এবং আবেদনপত্রে অনিয়মের অভিযোগে এই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে মূল বিনিয়োগকারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ১৫০ জন বিনিয়োগকারীর সাথে যুক্ত ৫ হাজার ৩৯১ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে, কারণ তাদের আবেদনপত্রে জালিয়াতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
এছাড়া, নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত পর্যালোচনার পর আরও ২৬৩ জন বিনিয়োগকারীর সাথে যুক্ত ৭৪৩ জনের নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করা হয়েছে। জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে পুলিশ বিভিন্ন সম্পত্তি এজেন্ট ও সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে।
তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কম মূল্যের সম্পত্তির কৃত্রিমভাবে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে তা ৪ লাখ ডলারের নির্ধারিত বিনিয়োগ সীমার শর্ত পূরণ করতে পারে। এছাড়া ভুয়া অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিনিয়োগের মিথ্যা চিত্র তৈরি করা হয়েছিল, যা তুরস্কের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তুরস্কের আইনে বিদেশি নাগরিকদের জন্য বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পথ হলো অন্তত ৪ লাখ ডলার মূল্যের রিয়েল এস্টেট কেনা, যা অন্তত তিন বছর বিক্রি না করার শর্ত রয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে স্থায়ী সম্পদ বা বিনিয়োগ তহবিলে বিনিয়োগের সুযোগও রয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তুরস্কের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য প্রদান বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব নেওয়া হলে তা বাতিলযোগ্য।
বিনিয়োগ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনিয়োগ বজায় রাখতে ব্যর্থ হলেও তুরস্কের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান রয়েছে। এই ঘটনাটি বিনিয়োগ কর্মসূচির ওপর তুরস্ক সরকারের কঠোর নজরদারির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতীতেও তুর্কি কর্তৃপক্ষ এমন সংগঠিত নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে, যারা আইন অনুযায়ী বিনিয়োগ না করেই বিদেশি নাগরিকদের নাগরিকত্ব পেতে সহায়তা করত। এই জালিয়াতি চক্রগুলো ভুয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তুরস্কের নাগরিকত্ব বিনিয়োগ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। হাজার হাজার বিদেশি বিনিয়োগকারী যারা বৈধভাবে নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী, তাদের জন্য এই কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ




























