দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে সফরকারী পেসাররা শুরু থেকেই স্বাগতিকদের চাপে রেখেছেন। লাঞ্চ বিরতির আগে ২২ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৭৪ রান। ক্রিজে অপরাজিত আছেন স্টিভেন স্মিথ, যিনি ব্যক্তিগত ৭ রান নিয়ে বিরতিতে গেছেন।
নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের বোলিং তোপে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিল অজি ব্যাটাররা। পিচে ঘাস থাকায় পেসাররা সুইং ও বাউন্স পাচ্ছিলেন। ১২তম ওভারে হাসান মাহমুদের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন জেক ওয়েদারাল্ড। ২৩ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। এরপর ১৪তম ওভারে হাসানের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ট্রাভিস হেড, যিনি ২২ রান করেছেন। হাসানের বোলিং স্পেলের সময় অস্ট্রেলিয়া বেশ চাপে ছিল, তিনি প্রথম ৭ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।
ইবাদত হোসেনও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। ১৯তম ওভারে তার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মারনাস লাবুশেন। মাত্র ১ রান করা লাবুশেনকে ফিরিয়ে ইবাদত তার পরিচিত স্যালুট উদযাপন করেন। লাবুশেনের বিদায়ের সময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ১৯ ওভারে ৬৪ রান। বাংলাদেশের পেসাররা টানা ভালো জায়গায় বল করে মাত্র ৪০ বলের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার ৩টি উইকেট তুলে নেন, যেখানে স্বাগতিকরা যোগ করতে পেরেছিল মাত্র ১৬ রান।
লাঞ্চের ঠিক আগে তাসকিন আহমেদ ওয়ানডে মেজাজে খেলতে থাকা ক্যামেরন গ্রিনকে ১৩ রানে ফিরিয়ে অজিদের আরও বিপাকে ফেলেন। তবে এই সেশনে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা হতাশার কারণ ছিল ক্যাচ মিস। ইবাদতের ১৭তম ওভারে তৃতীয় স্লিপে স্টিভেন স্মিথের একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন তানজিদ হাসান। বলটি নিচু হলেও তা লুফে নেওয়ার সুযোগ ছিল, যা কাজে লাগাতে পারলে স্মিথকে দ্রুত ফেরানো সম্ভব হতো।
প্রথম সেশনে হাসান মাহমুদ দুটি এবং তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন একটি করে উইকেট নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে দ্রুত সাজঘরে পাঠিয়ে বাংলাদেশ এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করছে। বিরতির পর নতুন ব্যাটারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ কতটা কার্যকর থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১২তম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে ড্রাইভের প্রলোভন দেখিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
২২ রান করে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার এই মারকুটে ব্যাটসম্যান।
বাংলাদেশের পেসাররা ভালো জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করার পুরস্কার হিসেবে ৪০ বলের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন।
অফ স্টাম্প বরাবর করা বলটি ভেতরে ঢুকে হেডের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে।
হাসানকে বিশ্রাম দিয়ে এরপর আক্রমণে ফেরানো হয় তাসকিনকে।
তবে তৃতীয় উইকেটের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে।
ইবাদতের বলটি লাবুশেন ছেড়ে দিলেই বিপদ এড়াতে পারতেন।
কিন্তু অভ্যাসবশত ব্যাট চালিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
ফলে বড় রানের ব্যাটসম্যান স্মিথকে দ্রুত ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের।
সূত্র: Daily Amar Desh




























