দ্য হান্ড্রেড ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বার্মিংহাম ফিনিক্সের বিপক্ষে ২ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে এমআই লন্ডন। তবে এজবাস্টনে অর্জিত এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ও দলটিকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। পয়েন্ট টেবিলে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস এবং সানরাইজার্স লিডসের সমান পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্ব শেষ করলেও, নেট রান-রেটে পিছিয়ে থাকায় চতুর্থ স্থানে থেকে বিদায় নিতে হলো এমআই লন্ডনকে। অন্যদিকে, লন্ডন স্পিরিটের কাছে ওয়েলশ ফায়ারের পরাজয়ে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের এলিমিনেটর নিশ্চিত হওয়ার পর সানরাইজার্স লিডস টেবিলের তৃতীয় স্থান দখল করে পরের রাউন্ডে চলে গেছে।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১৫৭ রান তোলার পর, সানরাইজার্স লিডসকে নেট রান-রেটে টপকাতে হলে এমআই লন্ডনের লক্ষ্য ছিল বার্মিংহাম ফিনিক্সকে ৯৮ বা তার কম রানে আটকে রাখা। ফিনিক্সকে দ্রুত অলআউট করার লক্ষ্যে বোলিংয়ে নেমে দারুণ শুরুও করেছিল লন্ডন। মাত্র ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়েছিল ফিনিক্স। জো ক্লার্ককে দ্রুত সাজঘরে পাঠান সিকান্দার রাজা। এরপর রিচার্ড গ্লিসন টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন—প্রথমে মিচেল ওয়েনের ঝড়ো ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান এবং পরে লরি ইভান্সকে লেগ-সাইডে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন।
তবে এমআই লন্ডনের প্লে-অফে যাওয়ার সেই স্বপ্ন ভেস্তে দেন জো ওয়েদারলি ও শন ডিকসন। চতুর্থ উইকেটে এই জুটি ৫৮ রান যোগ করে ফিনিক্সকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন। ৩১ বলে ৪২ রান করা ওয়েদারলি এই জুটিতে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন, আর ডিকসন তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তাদের বাউন্ডারিগুলো লন্ডনের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিচ্ছিল। অধিনায়ক স্যাম কারান ডিকসনকে আউট করে জুটি ভাঙলেও, পরের বলেই নিজের ভাই টম কারানের বোলিংয়ে ডনোভান ফেরেইরার সহজ ক্যাচ মিস করেন। শীঘ্রই ফিনিক্স ৯৮ রানের কোটা পেরিয়ে যায়, যার ফলে টুর্নামেন্ট থেকে এমআই লন্ডনের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
প্লে-অফের আশা শেষ হয়ে গেলেও ম্যাচ জয়ের লড়াই তখনও বাকি ছিল। ফেরেইরা ও ওয়েদারলি দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর জর্ডান থম্পসনের সহজ ক্যাচ লং-অফে মিস করেন উইল জ্যাকস। শেষ ১২ বলে ফিনিক্সের প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। কিন্তু রেহান আহমেদ ও থম্পসন বাউন্ডারি মেরে শেষ ৫ বলে লক্ষ্য নামিয়ে আনেন ১৩ রানে। ট্রেন্ট বোল্টের করা শেষ ওভারের প্রথম বলে রেহান ফাইন লেগের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মারেন এবং এরপর একটি ওয়াইড বল হলে নিকোলাস পুরান তা গ্লাভসবন্দী করতে ব্যর্থ হন। ফলে ৪ বলে মাত্র ৫ রান প্রয়োজন থাকায় ম্যাচটি ফিনিক্সের মুঠোয় চলে যায়। তবে শেষ মুহূর্তে বোল্ট চমৎকার সব ইয়র্কার দিয়ে ম্যাচটি এমআই লন্ডনের পক্ষে নিয়ে আসেন এবং সান্ত্বনার জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতে উইল জ্যাকসকে (১১) হারালেও দারুণ শুরু পায় এমআই লন্ডন। জেমস ভিন্স নিয়মিত বাউন্ডারি মারেন এবং নিকোলাস পুরান ফিনিক্সের বোলার টম হেলমকে একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে আক্রমণাত্মক শুরু করেন। পাওয়ারপ্লের শেষ বলে হেলমের একটি ধীরগতির ডেলিভারিতে বোল্ড হন ভিন্স। পাওয়ারপ্লেতে লন্ডন ৪৮ রান সংগ্রহ করে। এরপর স্যাম কারান শূন্য রানে আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে লন্ডনের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৭ রান। পুরান ৩৬ রান করে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে দলকে এগিয়ে নেন। মধ্য ও লোয়ার-মিডল অর্ডারের সম্মিলিত অবদানে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো পুঁজি পায় লন্ডন। জেসন রয় ধীরগতির শুরুর পর ২৬ রান করে আউট হন এবং সিকান্দার রাজা খেলেন ১৭ রানের ইনিংস। শেষ দিকে ওলি সাইকস ও টম কারানের ১৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটিতে ভর করে লড়াইয়ের পুঁজি পায় এমআই লন্ডন। অন্যদিকে, এই পরাজয়ের মাধ্যমে টানা সপ্তম ম্যাচ হেরে টেবিলের তলানিতে থেকে আসর শেষ করল বার্মিংহাম ফিনিক্স।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: এমআই লন্ডন ১০০ বলে ১৫৭/৬ (নিকোলাস পুরান ৩৬, জেসন রয় ২৬; রেহান আহমেদ ২-৭, ক্রিস উড ২-২৮) ২ রানে জয়ী বনাম বার্মিংহাম ফিনিক্স ১০০ বলে ১৫৫/৭ (জো ওয়েদারলি ৪২, জর্ডান থম্পসন ২৩*; রিচার্ড গ্লিসন ২-২৯, স্যাম কারান ২-৩৭)।



























