পেশাদার ফুটবল এবং ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় আমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছি। এই দীর্ঘ কর্মজীবনে বিশ্বের সেরা কিছু স্টেডিয়াম, ট্রেনিং সেন্টার এবং অত্যাধুনিক ক্রীড়া স্থাপনা দেখার এবং সেগুলোর সাথে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তবে মানুষ যখন তাদের জীবনের ওপর সবচেয়ে গভীর প্রভাব ফেলা কোনো ক্রীড়া কেন্দ্রের কথা স্মরণ করে, তখন তারা খুব কমই জিমের আকার, কোর্টের সংখ্যা বা ভবনের বিশালতা নিয়ে কথা বলে। তারা বরং সেই জায়গাটি তাদের কেমন অনুভূতি দিয়েছিল, সেখানকার পরিবেশ তাদের কতটা আপন করে নিয়েছিল, তা নিয়েই আলোচনা করে। আমার মতে, ক্রীড়া জগতের প্রকৃত ভবিষ্যৎ এখানেই নিহিত।
সাফল্যের নতুন সংজ্ঞা
দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পে সাফল্য পরিমাপের মানদণ্ড হিসেবে সদস্যপদ বিক্রি, ইউটিলাইজেশন রেট এবং রাজস্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যদিও ব্যবসার আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য এই পরিসংখ্যানগুলো অপরিহার্য, কিন্তু এগুলো কখনোই ব্যাখ্যা করতে পারে না কেন কিছু ক্রীড়া কেন্দ্র মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে, আর কিছু স্থাপনা কেবল সাময়িক পরিদর্শনের জায়গা হিসেবেই থেকে যায়। এর মূল পার্থক্যটি ভবন বা কাঠামোর মধ্যে নেই, বরং সেখানে গড়ে ওঠা কমিউনিটির মধ্যে নিহিত। আজকের গ্রাহকরা কেবল সরঞ্জামের সুবিধা চান না; তারা এমন অভিজ্ঞতা, সংযোগ এবং আন্তরিকতা খোঁজেন, যা তাদের প্রবেশদ্বার থেকেই স্বাগত ও মূল্যবান বোধ করায়।
আবেগীয় সংযোগের শক্তি
আপনি যখন কোনো জায়গায় বারবার ফিরে যান, তখন সেটি সাধারণত নতুন সরঞ্জাম বা বিশাল জায়গার কারণে হয় না। বরং এর কারণ হলো, সেখানকার কর্মীরা আপনার নাম মনে রাখে, সেখানকার পরিবেশ আপনাকে স্বস্তি দেয় এবং আপনি সেখানে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। আপনি যখন সেখান থেকে বের হন, তখন নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতেজ ও আনন্দিত অনুভব করেন। এই আবেগীয় সংযোগটি অত্যন্ত শক্তিশালী। একজন নেতা হিসেবে আমরা অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যিক পারফরম্যান্সের ওপর গুরুত্ব দিই, যা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, ভবন নিজে থেকে কোনো সংস্কৃতি তৈরি করে না; সংস্কৃতি তৈরি করে মানুষ।
কমিউনিটি ও সংস্কৃতির গুরুত্ব
- সংস্কৃতি গড়ে ওঠে অভ্যর্থনা ডেস্কে একটি আন্তরিক হাসির মাধ্যমে।
- একজন প্রশিক্ষক যখন কোনো শিশুর প্রথম সেশনটি মনে রাখেন, তখন সেটি গভীর সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে।
- কর্মীরা যখন কোনো সদস্যের সাহায্যের প্রয়োজন হওয়ার আগেই এগিয়ে আসেন, তখন সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই প্রতিষ্ঠানের মান বাড়িয়ে দেয়।
- এই মানবিক মিথস্ক্রিয়াগুলো আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা না গেলেও, এগুলোই মানুষকে বারবার ফিরে আসতে উৎসাহিত করে।
বাণিজ্যিক সাফল্য কঠোর বিক্রয় কৌশলের মাধ্যমে আসে না, বরং গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানের মাধ্যমে আসে। আধুনিক ক্রীড়া গন্তব্যগুলো এখন কেবল শরীরচর্চার জায়গা নয়; এগুলো এমন স্থান যেখানে পরিবারগুলো একসাথে সময় কাটায়, শিশুরা চলাফেরার আনন্দ খুঁজে পায় এবং পেশাজীবীরা তাদের কর্মজীবনের চাপ থেকে মুক্তি পায়। দুবাই এই বিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত। শহরটি বিশ্বমানের অবকাঠামোর পাশাপাশি এমন সব অভিজ্ঞতা তৈরি করছে, যা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
অলস্পোর্টস অ্যারেনার দর্শন
গালাদারি ব্রাদার্স-এর অধীনে আমরা অলস্পোর্টস অ্যারেনাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম ইনডোর স্পোর্টস ডেস্টিনেশন হিসেবে গড়ে তুলেছি। ফুটবল, প্যাডেল, সাঁতার, স্কোয়াশ থেকে শুরু করে জিমন্যাস্টিকস পর্যন্ত বিভিন্ন খেলার সংমিশ্রণ এখানে রয়েছে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য কেবল সুবিধা দেওয়া নয়, বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে মানুষ একে অপরের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। পরিশেষে, কোনো ক্রীড়া গন্তব্যের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার সদস্যপদ বা রাজস্বের অংকে মাপা যায় না; এটি মাপা হয় সেই জীবনগুলোর মাধ্যমে, যা এই কেন্দ্রটি ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞের পরিচয়
টেরি কিড অলস্পোর্টস অ্যারেনা দুবাইয়ের সেন্টার ম্যানেজার। তিনি একজন প্রাক্তন পেশাদার ফুটবলার এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রীড়া উন্নয়ন, কমিউনিটি অংশগ্রহণ এবং বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কাজ করে আসছেন। তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ক্রীড়া স্থাপনাকে কেবল একটি ভবন থেকে একটি প্রাণবন্ত গন্তব্যে রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস






























