নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ের দাবি আর করতে পারবেন না। মুরাতভ ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে নোভায়া গেজেটা সহ-প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা রাশিয়ার স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতীক হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। নোবেল কমিটি উল্লেখ করেছিল যে, নোভায়া গেজেটার ছয়জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। মস্কোতে নোভায়া গেজেটার কার্যালয় এখন অনেকটা শূন্য, কারণ এই স্বাধীন সংবাদমাধ্যমটির প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মুরাতভ জানান, পুতিনের নির্দেশে সংবাদপত্রটির ছাপাখানা রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়েছে এবং এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
মুরাতভ বলেন, 'এটি কোনো জয় হতে পারে না, যখন দুটি স্লাভিক জাতি একে অপরকে ধ্বংস করছে। আপনি ইউক্রেনকে ধ্বংস করতে পারেন, কিন্তু জয় করতে পারবেন না।' তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই সংঘাত পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। মুরাতভের মতে, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০ বারেরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামের মতো সরকারি অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ১৯৭৫ সালে আন্দ্রে সাখারভের নোবেল বক্তৃতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে তিনি ১২০ জনেরও বেশি রাজনৈতিক বন্দির তালিকা দিয়েছিলেন, আর এক দশক পরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সোভিয়েত ইউনিয়নে ৬০০ জনেরও বেশি বন্দির কথা জানিয়েছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চলছে। মুরাতভের তথ্যমতে, বর্তমানে অন্তত ১,৫০০ মানুষ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য কারাবন্দি। এর মধ্যে ৬৮ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত শিশু বিশেষজ্ঞ নাদেজদা বুয়ানোভাও রয়েছেন, যাকে যুদ্ধে সমালোচনার দায়ে সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মুরাতভ নিজে 'বিদেশি এজেন্ট' হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও নিজের নিরাপত্তার চেয়ে কারাবন্দি সহকর্মীদের দুর্দশা নিয়ে বেশি চিন্তিত। তিনি কারাগারের ফটক থেকে সংগ্রহ করা বেশ কিছু ছবি ও তথ্য তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক আন্তোনিনা ফাভোরস্কায়া, কনস্তান্তিন গাবভ, সার্গেই কারেলিন ও আরতিয়ম ক্রিগার। এছাড়া যুদ্ধবিরোধী ভিডিও পোস্ট করায় কারাবন্দি ৩৯ বছর বয়সী পিয়ানোবাদক পাভেল কুশনির প্রাক-বিচার আটকাবস্থায় অনশনে মারা গেছেন।
পশ্চিমের দেশগুলো এবং ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করে মুরাতভ বলেন, তারা একদিকে মানবাধিকারের কথা বলে, অন্যদিকে রাশিয়ার সাথে তেল, গ্যাস ও হীরা বাণিজ্যের চুক্তি করে। তিনি মনে করেন, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পুতিনের হাতে এবং দেশটির অভিজাত শ্রেণির মধ্যে গোপন ষড়যন্ত্রের যে কথা শোনা যায়, তাতে তার বিশ্বাস নেই। পুতিনের শাসনামলে রাশিয়ার নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়ার দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে মুরাতভ বলেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা, জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক বন্দিদের সংখ্যা প্রমাণ করে যে দেশের পরিস্থিতি উল্টো দিকে যাচ্ছে।






























