দুবাইয়ের শেখ জায়েদ রোডের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা ‘টয়োটা বিল্ডিং’ তার দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাসের ইতি টানতে যাচ্ছে। ১৯৭৪ সালে নির্মিত এই ভবনটি দুবাইয়ের নগর উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল। বর্তমানে ভবনটি সম্পূর্ণ খালি করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এরপরই এটি ভেঙে ফেলা হবে। ভবনটির ছাদে থাকা টয়োটা ব্র্যান্ডের বিলবোর্ডটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটিকে এক বিশেষ পরিচিতি দিয়েছিল, যদিও ভবনটির দাপ্তরিক নাম টয়োটা নয়।
ভবন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এর প্রায় ৯৫ শতাংশ বাসিন্দা ভবন ছেড়ে চলে গেছেন। এখন মাত্র চারটি অ্যাপার্টমেন্টে মানুষ বসবাস করছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই ভবনটি পুরোপুরি খালি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাসিন্দারা তাদের আসবাবপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ভবনের বেশিরভাগ অংশে এখন বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এবং স্থাপনাটির বিভিন্ন জায়গায় জরাজীর্ণ অবস্থার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি ভবনটির বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর কর্তৃপক্ষ এটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্কারের পরিবর্তে ভবনটি খালি করে ধ্বংস করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ভবনের ভেতরে অতিরিক্ত জনঘনত্বও এই জরুরি সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
দুবাইয়ের আকাশচুম্বী অট্টালিকাগুলোর উত্থানের আগের সময় থেকে শুরু করে বর্তমানের আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্তের সাক্ষী ছিল এই ভবনটি। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে শেখ জায়েদ রোডের এই স্থাপনাটি শহরের পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ছিল। এখন শেষ বাসিন্দারাও তাদের অ্যাপার্টমেন্ট গুছিয়ে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন তার শেষ দিনগুলো পার করছে এবং খুব শীঘ্রই এটি দুবাইয়ের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।
সূত্র: গালফ টুডে



























