বাংলাদেশের রংপুরে একটি মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শহরটির দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকার একটি বাড়ি থেকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলাতা চক্রবর্তী (৫০), তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্ত ও উদ্ধার প্রক্রিয়া
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, বাড়িটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মরদেহগুলো উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়িতে, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ বাড়ির ছাদে এবং তার ছেলের মরদেহ একটি খাটের নিচে পাওয়া গেছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।
পরিবারের ভাষ্য ও প্রেক্ষাপট
- গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর তিনি হোমিও চিকিৎসা শুরু করেছিলেন।
- নিহতদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী চলতি বছর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন এবং ছেলে প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
- নিহত প্রীতিলাতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই তাদের চারটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
- পূজা চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘আমার বোনের স্বামী অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। তারা নতুন বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস করছিলেন। কে বা কারা কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’
- নিহতের ভাতিজি সোমা চক্রবর্তী জানান, তিনিও বৃহস্পতিবার শেষবার তার চাচার সাথে কথা বলেছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
রংপুর মেট্রোপলিটন সিআইডির ইনচার্জ সুবীর চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঘটনার সময়কাল, কারণ এবং এর পেছনে থাকা অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ওসি নাজমুল কাদের বলেন, ‘আমরা চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছি। এখন পর্যন্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা মোটিভ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে কারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।’
এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তারা সব দিক খতিয়ে দেখছে। পরিবারের দাবি, গণপতি চক্রবর্তীর সাথে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না, যা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। বর্তমানে পুরো এলাকাটি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে এবং ফরেনসিক দলসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সূত্র: গালফ নিউজ





























