নেপাল ও চীন সীমান্তে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ৩৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। হিমালয়ের পাদদেশের এই অঞ্চলে দুর্যোগের কবলে পড়ে পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা কাদার স্তূপের মধ্য দিয়ে ১৪০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে বরফ ও কাদার বিশাল স্রোত নেমে আসায় এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।
তিব্বতের পবিত্র মাউন্ট কৈলাসে তীর্থযাত্রায় যাওয়া বহু হিন্দু পর্যটকসহ অসংখ্য বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের পুলিশ এখন পর্যন্ত ৩৫৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। দেশটিতে মোট ৯১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক। এছাড়া চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাদের ১০০ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের তিব্বত অঞ্চলে গিরং বন্দরে ভূমিধসের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৬০ জন বিদেশি পর্যটকসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বৃহস্পতিবার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেছেন। উদ্ধার কাজে নিয়োজিত চীনা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য লি কিপু জানান, পাহাড়ি সরু রাস্তা এবং উজানে একটি জলাধারের অস্থিতিশীলতার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রদান এবং অবরুদ্ধ রাস্তাগুলো খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা রয়েছেন। পরিবেশ ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল এই দুর্যোগকে 'অভ্যন্তরীণ সুনামি' বলে অভিহিত করেছেন, যা প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ পর্যন্ত আঘাত হেনেছে। নেপালের উত্তর সীমান্তে রাসওয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভারতের সীমান্তবর্তী চিতওয়ান পর্যন্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কম্বল, প্রাথমিক চিকিৎসার কিট, স্ট্রেচার এবং মরদেহের ব্যাগসহ জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পাঠাচ্ছে। ইউএসজিএস প্রথমে এটিকে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করলেও পরে বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয় যে, হিমবাহ ধস থেকেই এই ধ্বংসযজ্ঞের সূত্রপাত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ গলে যাওয়ার হার বাড়ছে, যা হিমবাহ হ্রদ ও ধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এখনো উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে পানি আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। কাঠমান্ডুর বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ ভুতে কোশি নদীর ভাটির বাসিন্দাদের এবং উদ্ধারকর্মীদের চরম সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্র (আইসিআইএমডি)-এর জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং জানিয়েছেন, নদীপথে ধ্বংসস্তূপের বাধা এখনো বিদ্যমান থাকায় নতুন করে বন্যার ঝুঁকি কাটেনি।





























