টরন্টোর মেয়র ওলিভিয়া চাও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান শুল্ক লড়াইকে একটি 'উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর পরিস্থিতি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এই বাণিজ্য বিরোধকে 'অপ্রয়োজনীয়' উল্লেখ করে বলেছেন যে, এটি কানাডার কর্মসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। চাওয়ের ভাষ্যমতে, টরন্টোর টেক্সটাইল, পোশাক এবং চামড়া শিল্প খাতের প্রায় ৫,০০০ কর্মসংস্থান এই বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, যখন এই ধরনের শুল্ক আরোপ করা হয়, তখন মার্কিন ক্রেতাদের জন্য পণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়াটা অনিবার্য।
কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মেয়র চাও জানিয়েছেন যে, তারা নিজেদের 'অপদস্থ' বোধ করছেন। তিনি বলেন, 'কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য বলাটা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি, যা আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না।' ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছিলেন যে, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকাচ্ছে এবং তাদের আর অঙ্গরাজ্যের মতো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না।
এই পরিস্থিতির জবাবে ওলিভিয়া চাও কানাডীয় নাগরিকদের আমেরিকান পণ্যের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়ে 'পাল্টা আঘাত' করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তার এই ক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রতি নয়, বরং মার্কিন সরকারের প্রতি। তিনি বলেন, 'আমেরিকানরা বৈরী নয়, কিন্তু আপনাদের প্রেসিডেন্ট আমাদের আক্রমণ করছেন।'
মেয়র চাও আমেরিকান জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা তাদের নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, 'কেন আমরা কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করছি?'
August 27, 2026 / 5:51 PM EDT / CBS News






























