নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ড ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাজা হারাল্ড ওসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার মৃত্যুতে উত্তরাধিকার সূত্রে নরওয়ের সিংহাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্স হাকোন।
রাজার প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওসলোর রাজপ্রাসাদের পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো নরওয়েতে। প্রাসাদের সামনে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে, অনেকেই শ্রদ্ধা জানাতে ফুল নিয়ে সমবেত হন। মায়া ওটভিক নামের এক নাগরিক জানান, রাজা হারাল্ড ছিলেন নরওয়ের ঐক্যের প্রতীক। তার বিদায় পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, রাজা হারাল্ড নরওয়েকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং দেশের মানুষও তাকে একইভাবে শ্রদ্ধা করত। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দ্রুতই এক সম্মেলনের আয়োজন করবে এবং নতুন রাজা হাকোনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। ইউরোপের দীর্ঘতম সময় ধরে রাজত্ব করা এই রাজা ১৭ আগস্ট থেকে হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতাজনিত জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
রাজার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বৃহস্পতিবার রাজপরিবারের সদস্যরা তার পাশে উপস্থিত হন। রানী সোনিয়া, ক্রাউন প্রিন্স হাকোন এবং ক্রাউন প্রিন্সেস মেট-মেরিটসহ পরিবারের সদস্যরা তার শয্যাপাশে সময় কাটান। ১৯৯১ সালে সিংহাসনে বসার পর থেকে রাজা হারাল্ড বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগলেও তিনি কখনোই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি। তিনি সবসময় বলতেন, নরওয়ের পার্লামেন্টের সামনে তিনি আজীবন দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছেন।
গত এক বছর নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য বেশ ঘটনাবহুল ছিল। ফেব্রুয়ারিতে তেনেরিফে ব্যক্তিগত ভ্রমণের সময় রাজা হারাল্ড সংক্রমণ ও পানিশূন্যতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মে মাসে রানী সোনিয়াও হৃদরোগের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া রাজপরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কও সামনে এসেছে। ক্রাউন প্রিন্সেস মেট-মেরিটের সঙ্গে প্রয়াত মার্কিন অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনের যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
পাশাপাশি, মেট-মেরিটের আগের সম্পর্কের সন্তান মারিয়াস বোর্গ হোইবি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন। জুনে তাকে ধর্ষণ ও সহিংসতার অভিযোগে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন। এদিকে, মেট-মেরিট নিজেও ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছেন এবং জুলাই মাসে তার ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এতসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রাজা হারাল্ডের বিনয়ী ও সাদামাটা জীবনযাপনের কারণে নরওয়ের জনগণের কাছে রাজপরিবার এখনো ব্যাপক জনপ্রিয়।
সূত্র: গালফ টুডে






























