সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দাদের অনলাইনে খুঁজে পাওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ২৮ আগস্ট, শুক্রবার সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, সব এআই প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ নয় এবং এর মধ্যে অনেকগুলো ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য ও ডেটা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হতে পারে।
নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের পরামর্শ দিয়েছে যে, কোনো এআই ওয়েবসাইট বা পরিষেবা ব্যবহারের আগে সেটির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে নিতে হবে। বিশেষ করে, অপরিচিত কোনো এআই টুলের ক্ষেত্রে ক্যামেরা বা ডিভাইসের অন্যান্য ফিচারের অনুমতি দেওয়ার আগে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় শুধুমাত্র যাচাইকৃত ও বিশ্বস্ত উৎস থেকে এআই টুল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা
- ব্যাংকিং ও আর্থিক তথ্য: ক্রেডিট কার্ড নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের তথ্য বা আর্থিক স্টেটমেন্ট কখনোই এআই চ্যাটবটে দেবেন না। ভুলবশত কথোপকথন শেয়ার হলে বা দুর্বল গোপনীয়তা সুরক্ষার কোনো এআই টুল ব্যবহার করলে এই তথ্য বেহাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র: পাসপোর্ট, এমিরেটস আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ভিসার মতো নথিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য থাকে। এগুলো এআই টুলে আপলোড করলে পরিচয় চুরির ঝুঁকি বাড়ে। কোনো নথির বিশ্লেষণের প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত তথ্যগুলো মুছে বা অস্পষ্ট করে আপলোড করা উচিত।
- স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রেকর্ড: রোগ নির্ণয়, প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার ফলাফল ও বিমার তথ্যের মতো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য রেকর্ড এআই টুলে ব্যবহারের সময় নাম ও শনাক্তকারী তথ্যগুলো সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার আক্রমণে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান ড. মোহাম্মদ আল কুয়েতি গত জুনে সতর্ক করেছিলেন যে, এআই এখন কেবল প্রথাগত ফিশিং বা ইমেইল আক্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ৯ জুন আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় গভর্নমেন্ট সাইবারসিকিউরিটি সামিটে তিনি বলেন, বর্তমানে ডেটা চুরি, ডেটা মুছে ফেলা এবং জটিল সাইবার অপারেশনের মতো নানা ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার হচ্ছে।
আল কুয়েতি আরও জানান, সাইবার সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এখন আর কেবল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নয়, বরং সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সাপ্লাই চেইন এবং ব্যক্তি পর্যায়ের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমগুলোও সাইবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এছাড়া এআই-জেনারেটেড ডিপফেক, ভুল তথ্য ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সরকার, বেসরকারি খাত এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাম্প্রতিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা আপডেট
- বিমানবন্দরের নতুন স্ক্যানার: দুবাই বিমানবন্দরে নতুন স্ক্যানার বসানো হচ্ছে, যার ফলে যাত্রীদের ব্যাগ থেকে তরল পদার্থ, জুতা বা বেল্ট খোলার প্রয়োজন হবে না।
- স্টারলিংক লাইসেন্স: সংযুক্ত আরব আমিরাত মাস্কের স্টারলিংককে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য ১০ বছরের লাইসেন্স প্রদান করেছে।
- ইরানের হুমকি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ‘অপতৎপরতা’ শুরু করলে ইরান পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে বলে দেশটির একজন কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন।
- গবেষকের মন্তব্য: সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাফল্যকে বাধাগ্রস্ত করতে ইরানের আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে বলে একজন গবেষক উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: খালিজ টাইমস































