লন্ডনের সেন্ট্রাল ক্রিমিনাল কোর্টে এক শুনানিতে চার যুবক উত্তর লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের চারটি অ্যাম্বুলেন্স পুড়িয়ে ধ্বংস করার অপরাধ স্বীকার করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর সরাসরি প্রভাব হিসেবে দেখছেন।
বিচারক ববি চিমা-গ্রাব আদালতের শুনানিতে জানান, এই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত অন্য এক ব্যক্তির পৃথক বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ২০২৭ সালের বসন্তে দোষী সাব্যস্ত এই চারজনের সাজা ঘোষণা করা হবে।
আদালতে অপরাধ স্বীকার করা চার যুবক হলেন—হামজা ইকবাল (২০), রেহান খান (১৯), জুডেক্স আতশাতশি (১৮) এবং সাইফ আলী (১৮)। তাদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন এবং মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে জেনেও বেপরোয়া আচরণ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
গত ২৩ মার্চ ভোরের দিকে উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুড়িয়ে দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সগুলো ‘হাতজোলা’ (Hatzola) নামক একটি ইহুদি স্বেচ্ছাসেবী দাতব্য সংস্থার মালিকানাধীন ছিল। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সের মূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার)।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম হামলার পর লন্ডনে বেশ কয়েকটি ইহুদি-বিদ্বেষী ঘটনা ঘটে। এই হামলাটিকেও তেমনই একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং চতুর্থজন গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। আগুনের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরিত হয়। এতে কাছাকাছি থাকা কয়েকটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট এবং একটি সিনাগগ (ইহুদি উপাসনালয়) ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আদালতে ইরানের কোনো এজেন্টের সরাসরি জড়িত থাকার কথা উল্লেখ না করা হলেও, প্রসিকিউটর লিও সেলিগ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই ঘটনার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসী সংযোগ’ রয়েছে। কাউন্টার টেররিজম পুলিশ লন্ডনের ইহুদি উপাসনালয় ও প্রতিষ্ঠানে হামলার পেছনে ইরানি এজেন্টদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অনলাইনে এসব হামলার বেশিরভাগেরই দায় স্বীকার করেছে ‘হারাকাত আশহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ (ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কমপ্যানিয়নস অব দ্য রাইট)।
তবে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে যেকোনো ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড বা অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
এদিকে, একই শুনানিতে সুবহান আহমেদ (১৮) নামের পঞ্চম এক অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে অপরাধীকে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি সরিয়ে ফেলতে তিনি সহায়তা করেছিলেন। আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি তার বিচার শুরু হবে।






























