ইউক্রেনের বুচা জেলায় রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কিয়েভের অদূরে অবস্থিত একটি গুদামঘরে এই হামলার পর সেখানে থাকা গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রীতে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত আশেপাশের আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিবকা কমিউনিটির প্রধান তারাস দিদিচও রয়েছেন, যিনি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী জনবসতি বা আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ মজুত রাখা নিষিদ্ধ। জেলেনস্কি বলেন, যারা এই ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা, যারা বেআইনিভাবে বিশনেভে এলাকায় অস্ত্র মজুতের অনুমতি দিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে ইউক্রেনের বৃহত্তম অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উকরোবরনপ্রমের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, মাইলা শহরে একটি এন্টারপ্রাইজের আঙিনায় ড্রোনটি আঘাত হানে। তারা এই ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিস্ফোরক সামগ্রী মজুতের বৈধতা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী সের্গি কোরেটস্কি আক্ষেপ করে বলেন যে, জুলাই মাসে বিশনেভেতে একই ধরনের প্রাণঘাতী হামলার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো শিক্ষা নেয়নি। আগের ওই তদন্তেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির ব্যাপক গাফিলতি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড না মানার বিষয়টি বেরিয়ে এসেছিল।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা মাইলা শহরে দীর্ঘপাল্লার ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও লঞ্চার মজুত থাকা একটি গুদামে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কিয়েভ অঞ্চলে ইউক্রেনের ফ্লেমিঙ্গো ক্রুজ মিসাইলের যন্ত্রাংশ রাখার গুদাম এবং মিকোলাইভ ও ইজমাইল বন্দরের লজিস্টিক সেন্টারেও হামলার কথা স্বীকার করেছে রাশিয়া।































