ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অদূরে একটি আবাসিক এলাকার কাছে অবস্থিত সামরিক অস্ত্র গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতের এই ভয়াবহ হামলায় প্রায় ৪০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার ফলে গুদামে থাকা শেল, মাইন এবং অন্যান্য বিস্ফোরক দ্রব্য বিস্ফোরিত হয়। এর ফলে পার্শ্ববর্তী একটি বৃদ্ধাশ্রমসহ বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আবাসিক এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক মজুত রাখা “অগ্রহণযোগ্য” এবং এ ধরনের গাফিলতির জন্য ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, বুচা জেলায় অবস্থিত এই গুদামে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় ৪২ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা মাইলা গ্রামের একটি গোলাবারুদ গুদামে হামলা চালিয়েছে, যেখানে এফপি-১/এফপি-২ দূরপাল্লার ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম ও লঞ্চ বুস্টার মজুত ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী লিউবোভ পাভলেঙ্কো জানিয়েছেন, গুদামের চারপাশের সব বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। হামলার পর থেকে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বোরিস দানিউলুক, ৬১, প্রশ্ন তুলেছেন, “কর্তৃপক্ষ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় – কেন এই গুদামগুলোতে, যেখানে আগে খাবার রাখা হতো, সেখানে এমনটা করার অনুমতি দেওয়া হলো?”
প্রধানমন্ত্রী সের্গি কোরেৎস্কি এই ঘটনাকে “অপরাধমূলক অবহেলা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জুলাই মাসে ভিশনেভে এলাকায় একটি অস্ত্র গুদামে হামলার কথা উল্লেখ করেন, যা একটি গৌণ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নয়জনকে হত্যা করেছিল, কয়েক ডজন মানুষকে আহত করেছিল এবং ২৮০টিরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় আবাসিক এলাকার কাছে বিস্ফোরক মজুত রাখার বৈধতা খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। বোরিসপিল জেলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর এবং কিয়েভের ওবোলনস্কি এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে দুই বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। কিয়েভে শনিবার সকালে নতুন করে আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীও রয়েছেন। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৩টি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি ওদেসা, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, সুমি এবং জাপোরিঝঝিয়ায় বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনও রাশিয়ার বেলগোরোদ ও রোস্তভ অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যাতে দুজন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজোন জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তাদের একটি লজিস্টিক সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তারা কার্যক্রম স্থগিত করেছে।































