যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে মুখ খুলেছেন ইরানের শীর্ষ নেতারা। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গত জুন মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরান প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। এর মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। গত মাসে ইরানে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
তেহরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। মরিয়ম নামে এক নারী জানান, যুদ্ধের আগে তিনি কাজ করতেন না, কিন্তু এখন সংসার চালাতে তাকে বাধ্য হয়ে চাকরি খুঁজতে হয়েছে। ওমিদ নামের এক খাদ্য ব্যবসায়ী জানান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যবসার মন্দার কারণে কর্মীদের বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি, যিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর থেকে জনসমক্ষে আসেননি, তিনি সরকারকে এই সংকট নিরসনের নির্দেশ দিয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং নিত্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সরকার জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও ভূখণ্ড রক্ষায় কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষা—এই দুটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ নেতা অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সামাজিক সংহতি রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এই আলোচনাকে ‘সৃজনশীল’ বলে অভিহিত করেছেন।
সামরিক দিক থেকে ইরান কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান আমির হাতামি জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার চেষ্টা করলেও, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ তীব্রতায় সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।
শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের হাতে বেশ কিছু ‘বিস্ময়’ জমা রয়েছে। তিনি বলেন, শত্রুদের এটি জেনে রাখা উচিত যে, উপযুক্ত সময়ে তারা ইরানের সেই বিস্ময় সম্পর্কে জানতে পারবে।
সূত্র: আল জাজিরা






























