ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুচা জেলায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় একটি গোলাবারুদের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে কিয়েভে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ড্রোন হামলায় আক্রান্ত স্থাপনাটিতে গোলা, মাইন, ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মজুত ছিল। হামলার পর এসব বিস্ফোরক একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে। জনবসতিপূর্ণ এলাকার এত কাছাকাছি এই ধরনের বিস্ফোরক রাখার তীব্র সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, মানুষের বসতবাড়ির পাশে এসব সামগ্রী রাখার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। যারা সেখানে এসব সামগ্রী রাখার অনুমতি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন।
হামলায় কয়েক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিচর্যা কেন্দ্রও রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে এবং উদ্ধারকাজে ঘটনাস্থলে ৩০০ জনের বেশি জরুরি সেবাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় পৌরসভার দীর্ঘদিনের প্রধান তারাস দিদিচও রয়েছেন, যিনি হামলার খবর পেয়ে মানুষের সহায়তায় ছুটে গিয়ে প্রাণ হারান। ইউক্রেনের পুনর্গঠন, অবকাঠামো ও পরিবহনমন্ত্রী মাইকোলা কালাশনিক দিদিচের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, রুশ দখলদারিত্বের সময়ও তিনি সবসময় স্থানীয় মানুষের পাশে ছিলেন।
এদিকে, কিয়েভে গত দুই দিন ধরে প্রায় বিরতিহীনভাবে রুশ হামলা চলছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কিয়েভে মোট ২৮টি বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়, যার সম্মিলিত স্থায়িত্ব ছিল ২৮ ঘণ্টারও বেশি। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, শনিবারের আরেকটি হামলায় গুরুতর আহত দুই বছর বয়সী একটি শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে এবং ওই হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। কিয়েভ ছাড়াও ওদেসা, দিনিপ্রো, জাপোরিঝঝিয়া, সুমি, খেরসন, খারকিভ, মিকোলাইভ, দোনেৎস্ক ও চেরনিহিভ অঞ্চলেও রাতভর রুশ হামলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় ২৬০টির বেশি আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া।





























