ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে সদস্যপদ নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে আইসল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১০টায় (২২:০০ জিএমটি) ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার পর এখন চলছে ভোট গণনার কাজ। রবিবার সকালের দিকে আংশিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২ লাখ ৭০ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রাথমিক ১ লাখ ৫২ হাজার ভোটের হিসাবে ৫০.১ শতাংশ ভোটার ব্রাসেলসের সাথে পুনরায় আলোচনা শুরুর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
ভোটের আগে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল যে, ফলাফল অত্যন্ত কাছাকাছি হতে পারে। কোনো জরিপই ৫০-৫০ শতাংশের ব্যবধান থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না। এর আগে গ্যালাপের একটি জরিপে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সামান্য এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেলেও বর্তমান প্রাথমিক ফলাফলে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির বিভিন্ন শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিমান, নৌকা ও গাড়িতে করে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছানোর কারণে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে রবিবার দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডোট্টিয়ার ভোট দেওয়ার পর এটিকে একটি ‘মহান দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে এই ভোটের অপেক্ষায় ছিলাম।’ বর্তমান সরকার, যারা ইইউ-পন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে রয়েছে, তারা এই গণভোটের আয়োজন করেছে এবং জনগণের রায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ১৩ বছর আগে তৎকালীন ইউরো-সন্দেহবাদী সরকারের আমলে আইসল্যান্ড ইইউতে যোগদানের আলোচনা স্থগিত করেছিল। তারও আগে ২০০৯ সালে আর্থিক সংকটের সময় দেশটির ছোট ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে রক্ষা করতে আইসল্যান্ড প্রথমবার ইইউতে যোগদানের আবেদন জানিয়েছিল।
যদি জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়, তবে ব্রাসেলসের সাথে সদস্যপদের শর্তাবলী নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শুরু হবে। এরপর চূড়ান্তভাবে ইইউতে যোগদানের বিষয়ে দেশটিতে দ্বিতীয় আরেকটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নথি অনুযায়ী, জনগণ আলোচনার পক্ষে রায় দিলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে এবং তা সম্পন্ন করতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে।
এই গণভোটের প্রচারণায় নিরাপত্তা, আইসল্যান্ডের ধীরগতির অর্থনীতি, মাছ ধরার অধিকার এবং দেশটির নিজস্ব মুদ্রা ‘ক্রোনা’র ভবিষ্যৎ ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই গণভোটে কোনো এক্সিট পোল ছিল না এবং ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পরই কেবল গণনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা






























