‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের দুই সংসদ সদস্য। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক শুরু হলে মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন বিলটির ওপর আলোচনার বিরোধিতা করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এর আগে জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের সময়ও তারা ওয়াকআউট করেছিলেন। একই দিন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনাও বর্জন করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল।
কমিটির বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য জানান, মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন শুরুতে উপস্থিত থাকলেও বিলটি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হলে তারা বেরিয়ে যান। তারা স্পষ্ট করেন যে, সংসদে বিল উত্থাপনের বিরোধিতা করার ধারাবাহিকতায় সংসদীয় কমিটিতেও তারা থাকছেন না। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও দুই সদস্যের ওয়াকআউটের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এই ওয়াকআউটের সমালোচনা করে বলেন, কমিটির সদস্য হিসেবে যেকোনো সংশোধনী, মতামত বা বিরোধিতা করার সুযোগ সভায় রয়েছে। সভা থেকে বেরিয়ে যাওয়া সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী। তবে দুই সদস্য বেরিয়ে যাওয়ার পর কমিটি বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন করে এবং পরীক্ষা শেষে তা সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, গত ছয় মাসে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। এছাড়া কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা না ঘটলেও কিছু ক্ষেত্রে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি বলেও জানানো হয়েছে। মিরাজ শেখের অপহরণের বিষয়টিও সভায় ওঠে। আলোচনায় বলা হয়, এই অপহরণের দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে, যা এক ধরনের ‘ব্লেম গেম’ এবং এটি পরিহার করা উচিত।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং শিরীন সুলতানা অংশগ্রহণ করেন।































