দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি অত্যন্ত জটিল ও অভিনব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন দুবাই কাস্টমসের কর্মকর্তারা। তারা ৪৬০ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট কাঁচা স্বর্ণ জব্দ করেছেন। চোরাকারবারিরা স্বর্ণগুলোকে গলিয়ে সরু রডের আকার দিয়ে সুটকেসের রাবারের ফ্রেম ও ভেতরের কাঠামোর ভেতর এমনভাবে লুকিয়ে রেখেছিল যে, তা সুটকেসেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে হচ্ছিল। মূলত স্ক্যানিং যন্ত্রকে ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। সুটকেসটি যখন পরিদর্শন যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন বাইরের দিক থেকে এটি অন্য যেকোনো সাধারণ সুটকেসের মতোই মনে হচ্ছিল এবং এর বাহ্যিক গঠনে কোনো সন্দেহের অবকাশ ছিল না।
তবে দুবাই কাস্টমসের পরিদর্শকদের তীক্ষ্ণ নজরদারি, তাদের দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং অত্যাধুনিক পরিদর্শন প্রযুক্তির সহায়তায় এক্স-রে স্ক্যানার স্ক্রিনে অস্বাভাবিক সংকেত ধরা পড়ে। এই সংকেতগুলোই কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে এবং তারা আরও বিস্তারিত তল্লাশি ও স্ক্রিনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরিদর্শকরা তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুটকেসের রাবারের ফ্রেম ও ভেতরের কাঠামো থেকে স্বর্ণের রডগুলো উদ্ধার করেন। এই রডগুলো ২৪ ক্যারেট কাঁচা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি ছিল এবং সুটকেসের মূল কাঠামোর সাথে এমন নিখুঁতভাবে খাপ খাওয়ানো হয়েছিল যা চোরাচালান চক্রের ক্রমবর্ধমান কৌশলী মানসিকতার পরিচয় দেয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে আটক হওয়া এশীয় বংশোদ্ভূত এক নারী যাত্রী দাবি করেন যে, তিনি নিজের দেশে একজনের কাছ থেকে সুটকেসটি নিয়েছিলেন এবং এর ভেতরে স্বর্ণ থাকার বিষয়টি তার জানা ছিল না। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই কাস্টমস সকল যাত্রীদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে, পরিচিত বা অপরিচিত কারো দেওয়া ব্যাগ, পার্সেল বা মালামাল বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে তাদের মালামালের ভেতরের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া উচিত, কারণ মালামালের ভেতর যা কিছু পাওয়া যাবে তার আইনি দায়ভার সংশ্লিষ্ট যাত্রীর ওপরই বর্তাবে।
দুবাই কাস্টমসের প্যাসেঞ্জার অপারেশনস বিভাগের পরিচালক খালিদ আহমেদ জানান, এই জব্দ করার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে চোরাচালান ও গোপন করার পদ্ধতি কতটা উন্নত হয়েছে। একই সাথে এটি দুবাই কাস্টমসের পরিদর্শকদের দক্ষতা এবং তাদের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের ক্ষমতাকে নিশ্চিত করে। তিনি আরও বলেন, দুবাই কাস্টমস পরিদর্শকদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নিয়মিত বিনিয়োগ করছে। এই প্রশিক্ষণগুলো নতুন নতুন চোরাচালান পদ্ধতি শনাক্তকরণ, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পড়া, আচরণ বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
খালিদ আহমেদ আরও উল্লেখ করেন যে, দুবাইয়ের বিমানবন্দরগুলোতে এক্স-রে স্ক্যানার, বডি স্ক্যানার এবং স্মার্ট সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে, যা যাত্রী চলাচল দ্রুত ও নির্বিঘ্ন রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি চোরাচালান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তাকে সরাসরি সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এটি বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ ও বাণিজ্যের জন্য দুবাইকে একটি অত্যন্ত দক্ষ ও নিরাপদ প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা দুবাই কাস্টমসের মূল লক্ষ্য ও মিশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূত্র: Gulf Today






























