যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই বিতর্কিত পদক্ষেপ নেন। এর মাধ্যমে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আগের একটি রায়কে কার্যত উপেক্ষা করলেন। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে নিজের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের প্রবণতা বন্ধ করা। মূলত অন্তঃসত্ত্বা বিদেশি নারীরা যেন সন্তান প্রসবের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত একটি আদেশ অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই আদেশে মূলত অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে এবার ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, নতুন এই নির্দেশনা আগের রায়ের আওতাভুক্ত নয়। তাদের ভাষ্যমতে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মের নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিকত্বের অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। যদিও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নেওয়া এই নীতি কংগ্রেসের পাস করা আইনের মতো অতটা শক্তিশালী নয়।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, এই আদেশের মাধ্যমে বার্থ ট্যুরিজমের চর্চা নিষিদ্ধ করা হলো। অভিবাসন কমানোর পক্ষে কাজ করা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’-এর ২০২০ সালের একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩৬ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল। নতুন এই আদেশের ফলে এখন থেকে এই বিশাল সংখ্যায় জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
নতুন এই নির্বাহী আদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যাঁদের ‘এলিয়েন এনিমি’ বা শত্রু দেশের নাগরিক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, তাঁদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারও সীমিত করা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প কংগ্রেসকে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে সাড়া না পেয়ে তিনি নিজেই নির্বাহী আদেশের পথ বেছে নিলেন। মার্কিন সংবিধানের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে নেওয়া এই পদক্ষেপ দেশটিতে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ লাখ (৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন) শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল।
সূত্র: প্রথম আলো






























