গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে চার দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে ১৯ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করেছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। পশ্চিম গাজা সিটির আল-সিনা স্ট্রিটে অবস্থিত 'কারাম' নামক আবাসিক ভবনে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয় বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
সিভিল ডিফেন্সের মরদেহ উদ্ধার প্রকল্পের নির্বাহী সুপারভাইজার মোহাম্মদ আবু দান জানান, কারাম ভবনে তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাদের বিশেষায়িত দলগুলো প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজ অব্যাহত রেখেছে এবং গাজা সিটির আরেকটি স্থানে নতুন করে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করতে সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে।
ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া শত শত ভবনের নিচে এখনও অসংখ্য মরদেহ চাপা পড়ে রয়েছে। তবে ধ্বংসযজ্ঞের বিশালতা এবং ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটের কারণে সিভিল ডিফেন্সের দলগুলোকে কাজ করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। গত ১৯ জুলাই এই বডি রিকভারি বা মরদেহ উদ্ধার প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়। এই প্রকল্পের সূচনাকালে সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছিলেন, গাজা, উত্তর গাজা এবং মধ্য গাজা গভর্নরেটের ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আনুমানিক ১,০৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এগুলো উদ্ধারে প্রায় ৮০০ কর্মঘণ্টা অনুসন্ধান চালাতে হবে।
মাহমুদ বাসাল আরও উল্লেখ করেন, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) সহযোগিতায় অত্যন্ত সীমিত সম্পদ নিয়ে তারা এই কাজ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে মাত্র একটি এক্সকাভেটর, একটি বুলডোজার এবং একটি ট্রাক। এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম ধাপে দলগুলো ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবনের নিচ থেকে ৩৩৩টি মরদেহ ও দেহাংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে সে সময় প্রায় ২২৬টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া, ২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছিল যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়াসহ প্রায় ৯,৫০০ ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী, উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৪,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া এই উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘ এই ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে।





























