ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান এই প্রণালীটি কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাকের জুলকাদর তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ “সংশোধন” না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছয়টি দাবি উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করা, ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা। এর বাইরে, ২০ জুলাই থেকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বন্দরগুলোতেও অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তারা এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকসহ নানা ধরণের কৌশল প্রয়োগ করছেন। তিনি দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযান শুরুর আগে উপসাগর দিয়ে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হতো, এখনো তা বজায় থাকবে। তবে জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াতের জন্য একটি ট্রাফিক ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অন্যতম প্রধান মতপার্থক্যের বিষয় ছিল প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ইরানের ফি আরোপের পরিকল্পনা। রয়টার্স এর আগে জানিয়েছিল যে, তেহরান জাহাজের কার্গো মূল্যের ৫% থেকে ৭% ফি দাবি করছে। তবে ভ্যান্স এই প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়ে বলেন, ইরান তাদের জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায়ের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অভিযোগ করেছে যে, শনিবার তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনক-এর একটি ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একে “শত্রুতাপূর্ণ ইরানি হামলা” হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একই দিনে যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ওমান উপকূলের কাছে একটি অজানা প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর জানায়, যা পরে নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহত নেই, তবে ইউকেএমটিও-এর প্রতিবেদনটি আমিরাতের উল্লেখিত জাহাজের সাথে সম্পর্কিত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
































