দুবাইয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাত বর্তমানে এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং পেশাজীবীরা এখন দুবাইকে তাদের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার চেয়েও বিস্তৃত এবং আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক পরিকল্পনার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারে (DIFC) সেন্ট জেমস প্লেস মিডল ইস্ট (SJPME)-এর কার্যক্রম শুরুর তিন বছর পর এই পরিবর্তনের চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এসজেপি যখন ডিআইএফসিতে তাদের কার্যক্রম শুরু করে, তখন থেকেই দুবাই উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে এই চাহিদার গভীরতা বেড়েছে। বর্তমানে বাসিন্দারা দুবাইকে কেবল স্বল্পমেয়াদী কর্মস্থল হিসেবে নয়, বরং ব্যবসা, পরিবার, সম্পত্তি এবং অবসরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন। এই মানসিকতা পরিবর্তনের ফলে এসজেপি তাদের স্থানীয় ক্লায়েন্টদের সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে থাকা আর্থিক জীবনকে সুসংহত করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। ২০২৬ সালে এসজেপি তাদের ফ্ল্যাগশিপ পোর্টফোলিও ফান্ড চালু এবং মর্নিংস্টার ওয়েলথ প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগ সেবাকে আরও বিস্তৃত করেছে।
সেন্ট জেমস প্লেস ইউএই-এর বিজনেস হেড ড্যানিয়েল জর্জ বলেন, দুবাই বিশ্বের অন্যতম গতিশীল আর্থিক কেন্দ্র। গত তিন বছরে এই বাজারের দ্রুত পরিপক্কতা লক্ষ্য করা গেছে। ক্লায়েন্টরা এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা এমন পরামর্শক খুঁজছেন যারা তাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে পাশে থাকতে পারবেন। এই সম্পর্ক-ভিত্তিক পরামর্শই এখন সময়ের দাবি। শুরুতে যারা দুবাইতে আসেন, তাদের মনোযোগ থাকে ব্যাংকিং, সঞ্চয়, কর এবং পেনশনের মতো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাদের প্রয়োজনগুলো আরও জটিল ও বিস্তৃত হয়, যেখানে দীর্ঘমেয়াদী উত্তরাধিকার পরিকল্পনা ও শিক্ষা তহবিল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ‘ওয়ার্ল্ডস ওয়েলদিয়েস্ট সিটিস রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দশ বছরে দুবাইয়ের কোটিপতির সংখ্যা ১০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৮১,২০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি দুবাইকে একটি বৈশ্বিক সম্পদ কেন্দ্রে পরিণত করেছে। বাসিন্দারা এখন দুবাইকে স্থিতিশীলতা এবং কানেক্টিভিটির একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা হিসেবে দেখছেন। ফলে আর্থিক পরামর্শের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা বেড়েছে। একটি পরিবার যারা ইউএই-তে বাস করে, কিন্তু যুক্তরাজ্যে সম্পত্তি আছে এবং সন্তান বিদেশে পড়াশোনা করছে, তাদের জন্য সমন্বিত আর্থিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।
এসজেপি বিশ্বাস করে যে, প্রযুক্তির উন্নয়ন তথ্য আদান-প্রদান সহজ করলেও, ব্যক্তিগত সম্পর্কই আর্থিক পরামর্শের মূল ভিত্তি। ক্লায়েন্টদের কেবল তথ্যের প্রয়োজন নেই, বরং তাদের প্রয়োজন এমন একজন বিশেষজ্ঞ যিনি বিভিন্ন জটিল সিদ্ধান্তের মধ্যে সমন্বয় করতে পারেন। এই লক্ষ্য নিয়ে এসজেপি মিডল ইস্ট দুবাইয়ের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা ব্রিটিশ দূতাবাসের মাধ্যমে আর্থিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং ব্রিটিশ মামস দুবাই ও এম্পায়ার ফুটবল ক্লাবের মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করছে।
ড্যানিয়েল জর্জ আরও বলেন, গত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখেছি যে, কার্যকর আর্থিক পরামর্শের শুরুটা হয় ক্লায়েন্টের কথা শোনার মাধ্যমে। আমরা গর্বিত যে, দুবাইয়ের ক্রমবর্ধমান সম্পদ বাজারে ক্লায়েন্টদের জটিল আর্থিক জীবনকে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে নিতে আমরা ভূমিকা রাখছি। এসজেপি মিডল ইস্টের লক্ষ্য হলো দুবাইয়ের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের সেবাকে আরও সমৃদ্ধ করা।
উল্লেখ্য, সেন্ট জেমস প্লেস (মিডল ইস্ট) লিমিটেড দুবাই ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি (DFSA) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাদের ডিএফএসএ ফার্ম রেফারেন্স নম্বর F003486। প্রতিষ্ঠানটি ডিআইএফসি-এর গেট ডিস্ট্রিক্ট প্রিসিনক্ট বিল্ডিং ০৩-এ অবস্থিত। তারা আর্থিক পণ্যের ওপর পরামর্শ প্রদান, কাস্টডি এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনের জন্য অনুমোদিত। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: https://www.sjp.asia/ae
সূত্র: খালিজ টাইমস
































