ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে আন্দ্রেয়া পিরলোকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা ছিল না বলে দাবি করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার পাওলো মালদিনি। ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিজের সংক্ষিপ্ত মেয়াদ এবং ফেডারেশনের সভাপতি জোভান্নি মালাগো-র সাথে বিরোধ নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি। 'কোরিয়েরে দেল্লা সেরা' পত্রিকাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে মালদিনি স্পষ্ট করেন, পিরলোর নিয়োগ আটকে যাওয়ার পেছনে আইনি জটিলতা নয়, বরং জনমতের চাপ এবং ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তই দায়ী ছিল।
ইতালির প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রথমে কার্লো আনচেলত্তি এবং পেপ গার্দিওলাকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন মালদিনি। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি এসি মিলানের সাবেক সতীর্থ আন্দ্রেয়া পিরলোকে এই পদের জন্য বেছে নেন, যিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব দুবাই ইউনাইটেডের প্রধান কোচ হিসেবে কর্মরত। তবে পিরলোকে কোচ করার এই প্রস্তাব ফুটবল সমর্থক এবং ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের একাংশের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে।
বিরোধিতার মূল কারণ ছিল রাশিয়ার বেটিং কোম্পানি 'ফনবেট'-এর সাথে পিরলোর বৈশ্বিক দূত (গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর) হিসেবে যুক্ত থাকা। বিষয়টি নিয়ে নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন ওঠে এবং ফেডারেশনের কেউ কেউ দাবি করেন যে এর ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে মালদিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পিরলোর ফনবেটের সাথে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি তাদের আগে জানা ছিল না। জনমত এখানে ভূমিকা রেখেছে ঠিকই, কিন্তু আন্দ্রেয়াকে কোচ করার ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা ছিল না। পিরলো ওই রুশ বেটিং কোম্পানির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতেও রাজি ছিলেন। মালদিনি তাকে একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, পিরলোকে নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হয়েছিল।
মালদিনি জানান, শেষ পর্যন্ত পিরলোর নিয়োগ আটকে দেওয়ার মূল সিদ্ধান্তটি ছিল ফেডারেশন সভাপতি জোভান্নি মালাগো-র। শুরুতে মালদিনিকে কোচের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষা করা হয়নি। এক পর্যায়ে মালাগো তাকে এবং লিওনার্দোকে ফোন করে জানান যে তারা আর পিরলোকে কোচ হিসেবে বিবেচনা করতে পারছেন না এবং এখন থেকে কোচের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরো ক্ষমতা সভাপতির হাতে থাকবে।
সভাপতির এই সিদ্ধান্তকে অনভিপ্রেত এবং অগ্রহণযোগ্য মনে করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দেন মালদিনি ও লিওনার্দো। ফেডারেশনের সাথে চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই মাত্র ১৭ দিনের মাথায় কাজ ছেড়ে দেন তারা। মালদিনি বলেন, কাজের জন্য যে পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রয়োজন ছিল, তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।



























