দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে দর্শন বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন মো. আনিছুর রহমান। তবে অর্জিত ডিগ্রি তাকে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। চাকরির আশায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি পদে পরীক্ষা দিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সুযোগ পাননি তিনি। বর্তমানে অসুস্থ বাবা, প্রয়াত মা এবং প্রতিবন্ধী বেকার বোনকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আনিছুর।
আনিছুরের জীবনের গল্পটি বেদনার। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে এক মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি হাঁটাচলার সক্ষমতা হারান। তার বোন আমেনা আক্তারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে সাত বছর বয়সে। অভাবের সংসারে বাবা ছিদ্দিক হোসাইন হাটে-বাজারে ঝালমুড়ি বিক্রি করে এবং মা সন্তানদের কোলে-কাঁধে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে আনিছুর মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর তার মা মারা যান, যার শেষ স্বপ্ন ছিল সন্তানদের নিজের পায়ে দাঁড়ানো দেখা। বর্তমানে বাবা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ায় ঝালমুড়ি বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে এবং সংসারে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে।
আনিছুর ভিক্ষা বা করুণা চান না; তিনি নিজের যোগ্যতা ও শ্রম দিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ চান। আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কর্মসূচিকে ঘিরে তিনি এক মিনিটের জন্য সাক্ষাতের আকুতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি ভিক্ষা চাই না, করুণা চাই না। শুধু এক মিনিট আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমাদের কষ্টের কথাগুলো আপনাকে বলতে চাই। একটি ছোটখাটো সম্মানজনক চাকরির সুযোগ পেলে আমরা দুই ভাই-বোন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব।”
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি জানান, আনিছুরের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আনিছুরের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র এক মিনিটের সাক্ষাৎ তার এবং তার পরিবারের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।































