ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে রাশিয়া তাদের সামরিক হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এই অভিযোগের মধ্যেই গত রাতের ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে রুশ বাহিনীর হামলায় ছয়জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলে ড্রোন ও আর্টিলারি হামলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরসহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে রাশিয়া অতিরিক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে এবং সেখানে আরও উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। ২০২৪ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যেখানে একে অপরের ওপর আগ্রাসনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই ইউক্রেনীয় সেনাদের সাথে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার সাথে এই সহযোগিতার ফলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উন্নত হচ্ছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ইউক্রেন ও ইউরোপে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনাদের ব্যবহার যত বাড়বে, তারা তাদের প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলো তত দ্রুত শুধরে নেবে। এটি পরবর্তীতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইনসহ ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ অনুমান করেছিল যে যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১,০০০-এর বেশি উত্তর কোরিয়ার সেনা অংশ নিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো আহত দুইজন উত্তর কোরিয়ার সেনাকে বন্দি করার ঘোষণা দেয়।
জেলেনস্কির মতে, রাশিয়া এখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এছাড়াও পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেন জুড়ে ৭৭৫ মাইল দীর্ঘ ফ্রন্ট লাইনে নতুন করে আক্রমণের জন্য মস্কো সেনা নিয়োগ বাড়াচ্ছে। জেলেনস্কি আরও বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি, উত্তর কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম আনা এবং নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রস্তুতির প্রতিটি পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে মস্কো শান্তির পথে নয়, বরং যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ানোর দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।






























