বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজ দুপুরের পর জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন। এরপরই নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হলে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না। সংবিধানের ৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান এবং সংবিধানের ৫৬(১) অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদকে সরকারের মন্ত্রিসভার কাঠামোর অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ৫০(১) ধারায় রাষ্ট্রপতির মেয়াদ উল্লেখ রয়েছে। ফলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে, তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলে তাঁর বর্তমান মন্ত্রিত্ব ও দলের মহাসচিব পদ দুটিও ছেড়ে দিতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই তিনি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন।
মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য প্রস্থানের পর বিএনপির মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কে আসছেন, তা নিয়ে দলের ভেতর আলোচনা তুঙ্গে। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন এবং এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম বারবার আলোচনায় উঠে আসছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হতে পারে, যার দৌড়ে রুহুল কবির রিজভী এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন অনেক নেতা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আজ বিকেল চারটার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে, যার ফলে ৯১-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছিল, তেমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। মির্জা ফখরুল ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সম্মতিসূচক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছেন, যা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়তে পারেন।































