আধুনিক জীবনযাত্রায় দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভুল ভঙ্গিতে বসা এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ঘাড় থেকে কাঁধ হয়ে হাতে ব্যথার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। অনেকে একে সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করলেও, এটি মূলত স্নায়ুর মারাত্মক কোনো জটিলতার পূর্বলক্ষণ হতে পারে। ঘাড়ের হাড়ের মধ্যবর্তী ডিস্ক ক্ষয়ে গেলে বা স্থানচ্যুত হয়ে স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করলে এ ধরনের ব্যথার উৎপত্তি হয়। এর ফলে ঘাড় থেকে ব্যথা কাঁধ ও বাহু বেয়ে আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে আক্রান্ত স্থানে ঝিনঝিন করা, অবশ ভাব বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। এছাড়াও ঘাড়ের পেশিতে টান লাগা, সরাসরি আঘাত পাওয়া, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে কাজ করা এবং সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।
চিকিৎসকদের মতে, ব্যথার পাশাপাশি যদি হাত অবশ হয়ে আসে, হাতের শক্তি কমে যাওয়ার কারণে কোনো জিনিসপত্র ধরতে সমস্যা হয় কিংবা ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তবে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এক্স-রে বা এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ শনাক্ত করা জরুরি। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরন বিবেচনা করে ওষুধ, বিশ্রাম ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই রোগ নিরাময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সঠিক ফিজিওথেরাপি। নিয়মিত ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম এবং কর্মস্থলে সঠিক অঙ্গবিন্যাস বজায় রাখার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে ঘাড় টানা (ট্রাকশন), ভুল মালিশ বা অনিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই জটিল সমস্যা প্রতিরোধে দৈনন্দিন কাজে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন—কাজের মাঝে প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর পর বিরতি নেওয়া, চোখের সমান্তরালে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা, সঠিক উচ্চতার চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করা এবং ঘুমানোর সময় উপযুক্ত বালিশ ব্যবহার করা। ঘাড় থেকে হাতে ছড়ানো ব্যথায় অযথা সময় ও অর্থ অপচয় না করে, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ এবং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সঠিক চিকিৎসা ও নির্দিষ্ট ব্যায়ামের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে জটিলতা এড়িয়ে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
নিবন্ধটি লিখেছেন ঢাকার তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার ফনিক্স টাওয়ারে অবস্থিত অ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টারের চেয়ারম্যান, চিফ কনসালট্যান্ট ও সহকারী অধ্যাপক।
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অযথা ঘাড় টানা, ভুল মালিশ কিংবা অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তির মাধ্যমে অনিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।এই সমস্যা প্রতিরোধে প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া, চোখের সমতলে মোবাইল ধরে রাখা, সঠিক উচ্চতার চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করা, উপযুক্ত বালিশে ঘুমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম ক





























