মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-এ চরম খাদ্য সংকট, ভেঙে পড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ক্রুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে তদন্ত ও ব্যাখ্যা দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। রেকর্ডসংখ্যক দিন সমুদ্রে অবস্থান করা এই বিমানবাহী রণতরীর ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও-এর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল।
সিনেটর ব্লুমেনথাল জানান, রণতরীটি ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং গত ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এটি কোনো তীরে ভেড়েনি। এটি সমুদ্রে টানা অবস্থানের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড। দীর্ঘস্থায়ী এই মোতায়েনের কারণে জাহাজটিতে মৌলিক সরবরাহের ঘাটতি, পানি দূষণ, প্লাম্বিং সমস্যা, ডেক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং ক্রুদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'আব্রাহাম লিংকন' বর্তমানে অত্যন্ত প্রতিকূল ও যুদ্ধকবলিত এলাকায় কাজ করছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী সরবরাহ কেন্দ্রগুলো যুদ্ধের কারণে ব্যাহত হয়েছে। এর জবাবে জাহাজের নেতৃত্ব জরুরি রসদ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছে; যার মধ্যে প্রথমে খাদ্য, তারপর স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী এবং সবশেষে চিঠিপত্র বা মেইল রয়েছে। তবে বর্তমানে জাহাজে বিশুদ্ধ পানি, কার্যকর এসি এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি বিমানবাহী এই যুদ্ধজাহাজ থেকে এক নৌসেনা সাগরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, চলতি মাসের শুরুতে বিমান শাখার ওই সেনাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাহাজ থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। সিএনএন প্রথম এই সেনা সাগরে পড়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ করে।
এদিকে, অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গ্যালেগো সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'মিলিটারি টাইমস'-এর তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকজন নৌসেনা জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেছেন বা তাদের বিরত রাখা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তদন্তে নৌবাহিনীকে অবশ্যই একটি দ্বিপক্ষীয় কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দলকে জাহাজটি পরিদর্শনের অনুমতি দিতে হবে।
এমএসনাউ (MSNOW)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজে থাকা প্রায় ৫,০০০ নৌসেনা ও মেরিন সেনার পরিবার সম্প্রতি দুটি বৈঠকে নৌবাহিনীর নেতৃত্বের সাথে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা খাদ্য সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাদের স্বজনেরা কবে বাড়ি ফিরবেন তা জানতে চান। কিছু পরিবার জাহাজে থাকা ক্রুদের তীব্র মানসিক সমস্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার কথা জানিয়েছেন।
তবে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী জাহাজে আত্মহত্যার চেষ্টা বা প্রবণতা বাড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ক্রুদের সহায়তার জন্য জাহাজে পরামর্শক, যাজক ও চিকিৎসা পেশাদারদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক চালু রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।




























