পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত সকল পাকিস্তানি নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। ১৪ আগস্টের এই দিনটি সেইসব আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যার বিনিময়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট কায়েদ-ই-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পাকিস্তান আন্দোলনের সকল নেতা-কর্মী এবং যারা একটি স্বাধীন স্বদেশের জন্য নিজেদের ঘরবাড়ি, নিরাপত্তা ও জীবিকা উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, স্বাধীনতা কেবল একটি ঐতিহাসিক অর্জন নয়, এটি এমন একটি দায়িত্ব যা প্রতিটি প্রজন্মকে বহন করতে হবে। জনগণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে গড়ে ওঠা পাকিস্তানকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করে তোলা আমাদের লক্ষ্য। পূর্বসূরিদের অর্জনের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মকে নিজেদের কাজের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে হবে। গত এক বছর পাকিস্তানের জাতীয় শক্তির পরিচয় দিয়েছে, যা আমাদের দায়িত্ববোধের শিক্ষাই দেয়।
তিনি আরও বলেন, একটি দেশ যখন নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়, তখন সেই শক্তিকে সংঘাত এড়াতে, শান্তি বজায় রাখতে এবং জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সংলাপ ও উত্তেজনা হ্রাসের যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা এই দায়িত্ববোধেরই উদাহরণ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান স্পষ্ট করে প্রেসিডেন্ট জানান, যেকোনো গুরুতর বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার সাথে পাকিস্তানের নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তাই আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সবসময় কাজ করে যাবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষা ও দক্ষতার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
সাধারণ মানুষের জীবনে উন্নয়নের প্রতিফলন ঘটার ওপর জোর দিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, একজন তরুণের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ, পরিবারের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আত্মবিশ্বাস জোগানোই হলো প্রকৃত জাতীয় অগ্রগতি। দেশের শক্তি পরিমাপ করা হবে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মাধ্যমে।
জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পাকিস্তান কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে তিনি সকল পাকিস্তানিকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতির জন্য অবদান রাখার আহ্বান জানান। পরিশেষে, তিনি মহান আল্লাহর কাছে পাকিস্তানের সুরক্ষা, জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করেন।
সূত্র: গালফ নিউজ




























