গ্রীষ্মের ছুটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্রামের সময় হলেও, এটি নতুন কিছু শেখার এক দারুণ সুযোগ। শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যবইয়ের চাপ ও পরীক্ষার বাইরে এই সময়টি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বিষয়গুলো যাচাই করার এবং ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের পথ প্রশস্ত করে। পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জগতের সাথে জ্ঞানের সংযোগ স্থাপনের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য পূরণে তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করা অত্যন্ত জরুরি। দেশটির ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ২০৩১’-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক ভবিষ্যতের চাকরির জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা। এছাড়া ‘ইউএই সেন্টেনিয়াল ২০৭১’ অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ এবং তাদের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ফিউচার অফ জবস রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৮৭ শতাংশ নিয়োগকর্তা মনে করেন যে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার চাহিদা বাড়বে। এআই, বিগ ডেটা, নেটওয়ার্কিং, সাইবার সিকিউরিটি, নেতৃত্ব এবং সামাজিক প্রভাবের মতো বিষয়গুলো আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেই হবে না, এর পাশাপাশি মানবিক দক্ষতারও প্রয়োজন রয়েছে। সমালোচনামূলক চিন্তা, যোগাযোগ দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের মতো গুণাবলি শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করবে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এই মানবিক দক্ষতাগুলো অর্জন করা জরুরি।
গ্রীষ্মের এই সময়টিকে স্কুলের বাড়তি ক্লাস হিসেবে না দেখে, বরং ভিন্নভাবে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। শিক্ষার্থীরা এআই, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, পর্যটন বা সৃজনশীল শিল্প নিয়ে কাজ করতে পারে। এর উদ্দেশ্য তাৎক্ষণিক ক্যারিয়ার নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইন্টার্নশিপ, কমিউনিটি প্রজেক্ট, স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা অনলাইন কোর্সগুলো দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিক্ষার্থী ডেটা নিয়ে কাজ করতে চাইলে সে পাবলিক ডেটাসেট ব্যবহার করে হাতে-কলমে শিখতে পারে। আবার যারা পরিবেশ নিয়ে আগ্রহী, তারা স্থানীয় কোনো পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে কাজ করে তার সমাধান খুঁজতে পারে।
দলগত প্রজেক্টের মাধ্যমে যোগাযোগ ও সহযোগিতার দক্ষতা বাড়ে, আবার নতুন কোনো কাজ করার মাধ্যমে অভিযোজন ক্ষমতা তৈরি হয়। কোনো আইডিয়া উপস্থাপন করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার মাধ্যমে সহনশীলতা তৈরি হয়। এই গুণগুলো কেবল তাত্ত্বিক পড়াশোনায় অর্জন করা সম্ভব নয়, বরং অনুশীলনের মাধ্যমেই এগুলো অর্জন করতে হয়।
গ্রীষ্মকালীন অভিজ্ঞতার শেষে শিক্ষার্থীর হাতে কোনো ছোট প্রজেক্ট, পোর্টফোলিও বা কোনো সমস্যার সমাধান থাকা উচিত। এর লক্ষ্য কেবল কাজের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং শিক্ষার্থী কী শিখল এবং তা কীভাবে প্রয়োগ করল, তার প্রমাণ রাখা। এটি তাকে ভবিষ্যতে কোন পথে এগোতে হবে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেবে।
সব শিক্ষার্থীর জন্য ইন্টার্নশিপ বা বিশেষ প্রোগ্রামের সুযোগ না থাকলেও, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগকর্তারা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নমনীয় অনলাইন লার্নিং এবং স্ব-উদ্যোগে করা প্রজেক্টগুলো যেকোনো স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়।
কোর্সারের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার কাইস জ্রিবির মতে, গ্রীষ্মের সময়টা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও স্বচ্ছতা অর্জনে সহায়তা করে। যখন শেখার প্রক্রিয়াটি নমনীয় ও কৌতূহল-চালিত হয়, তখন তা কেবল চাকরির প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি আজীবন শেখার মানসিকতা তৈরি করে যা ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথ চলায় সহায়ক হয়।
সূত্র: গালফ নিউজ































