ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস অঞ্চলে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরপরই পশ্চিম সুমাত্রা দ্বীপে ৬.৪ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। উদ্ধারকারী দলগুলো রবিবার আরও ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করার পর নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৯৫টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ৪৬টি কম্পন স্থানীয় বাসিন্দারা অনুভব করতে পেরেছেন। সবচেয়ে শক্তিশালী আফটারশকটির মাত্রা ছিল ৬.২। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, মূলত সিক্কা, মাঙ্গারাই এবং পূর্ব মাঙ্গারাই এলাকা থেকে অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে ফ্লোরেস অঞ্চলের অন্তত ২৪১টি এবং পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে ৯০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।
ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না দেখায় কর্তৃপক্ষ পরে সেই সতর্কতা তুলে নেয়। উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটার কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে দায়ী করেছেন পূর্ব নুসা তেঙ্গারা পুলিশ প্রধান রুদি দারমোকো। তিনি জানান, ভূমিকম্পে সৃষ্ট ভূমিধসের কারণে লাবুয়ান বাজো থেকে লারানতুকা পর্যন্ত বিস্তৃত ট্রান্স-ফ্লোরেস মহাসড়কটি বন্ধ হয়ে গেছে।
ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, উপকেন্দ্র থেকে ৬০ মাইল পশ্চিমে রুতেন শহরের বাসিন্দা ইউলিয়ান জুিতা একালিয়া জানান, তিনি আগে কখনও এমন বড় ভূমিকম্প অনুভব করেননি। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রোগীদের বাইরে এনে অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তা এবং লজিস্টিক সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে, যা দ্বীপপুঞ্জবেষ্টিত এই এলাকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।































