ইংল্যান্ডে প্রতি বছর ৭০,০০০-এরও বেশি হিস্টেরোস্কোপি সম্পন্ন হয়। এনএইচএস এই প্রক্রিয়াটিকে 'উচ্চ ভলিউম ও কম জটিল' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে থাকে। তবে এই রুটিন পরীক্ষাটি অনেক নারীর জন্য এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা তাদের তীব্র ব্যথাকে গুরুত্ব দেন না এবং পর্যাপ্ত ব্যথানাশক প্রদানের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন।
বেথ হ্যারিস নামের এক রোগী তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, জরায়ুর একটি ফাইব্রয়েড অপসারণের সময় তাকে যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা ছিল অমানবিক। চিকিৎসকরা তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে স্থানীয় অবেদন বা লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে কোনো ব্যথা অনুভূত হবে না এবং এটি দাঁতের চিকিৎসার মতোই সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রক্রিয়াটি ছিল তীব্র যন্ত্রণাদায়ক। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা নিজেদের মধ্যে সাধারণ আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন এবং রোগীর কষ্টের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি। হ্যারিস জানান, এই ঘটনার পর থেকে যেকোনো মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং তিনি আর কোনো পরীক্ষার ঝুঁকি নিতে চান না।
২০২০ সালের একটি মাল্টিসেন্টার গবেষণায় দেখা গেছে, হিস্টেরোস্কোপি করা নারীদের ব্যথার গড় মাত্রা ৫.২, যা হাসপাতালের মানদণ্ডে মাঝারি পর্যায়ের ব্যথা হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য কোডিনের মতো ব্যথানাশকের প্রয়োজন হয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রায় ৩৫ শতাংশ নারী সাত বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার তীব্র ব্যথার শিকার হন। রিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যথা বিষয়ক গবেষক রিচার্ড হ্যারিস জানান, ব্যথার কারণে প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়, যা ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা থেকে বিমুখ করে তুলতে পারে।
ক্যাথরিন টিলকো, যিনি 'হিস্টেরোস্কোপি অ্যাকশন' (HA) নামক প্রচারণা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, গত ১৬ বছর ধরে এই প্রক্রিয়ায় রোগীদের পূর্ণ সচেতনতা ও ব্যথানাশকের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। ২০১০ সালে গঠিত এই সংগঠনটি দাবি জানায় যে, কোলনোস্কোপি রোগীদের মতো হিস্টেরোস্কোপি রোগীদেরও যেন ব্যথানাশকের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়। যদিও এপ্রিল মাসে তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নতুন নারী স্বাস্থ্য কৌশলে ব্যথানাশকের পছন্দের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন ঘটেনি বলে অভিযোগ টিলকোর।
হেলেন গ্যার্নেট নামক আরেক ভুক্তভোগী জানান, তিনি তার পরীক্ষার সময় চিকিৎসকদের কাছ থেকে 'গ্যাসলাইটিং' বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি ব্যথানাশকের অনুরোধ করলেও তাকে উপেক্ষা করা হয় এবং নার্সরা শিশুসুলভ আচরণের মাধ্যমে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। গ্যার্নেট জানান, এই অভিজ্ঞতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তিনি এর প্রতিবাদে গোপনে পরীক্ষার অডিও রেকর্ড করেছিলেন।
কিছু বিশেষজ্ঞ অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, অতীতে এই পরীক্ষার ব্যথার তীব্রতা সম্পর্কে চিকিৎসকরা যথেষ্ট সচেতন ছিলেন না। ডা. গেইল বাসবি জানান, তারা আগে ভাবতেন এটি পিরিয়ডকালীন ব্যথার মতো, কিন্তু এখন এটি স্পষ্ট যে অনেক নারীই তীব্র ব্যথার শিকার হন এবং তাদের কথা শোনা প্রয়োজন। এদিকে, ভুক্তভোগী নারীরা এখন তাদের অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে সোচ্চার হচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে কাউকে এমন যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়।































