ভারতীয় ক্রিকেটে গত ১৪ বছর ধরে বাঁহাতি স্পিনের যে চিত্র দেখা গেছে, তাতে রবীন্দ্র জাদেজার বোলিং শৈলী ছিল এক বিশেষ মানদণ্ড। জাদেজার বোলিংয়ে যে সূক্ষ্মতা ও নির্ভুলতা রয়েছে, তা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে গলে টেস্টে মানভ সুথারের আবির্ভাব ভারতীয় স্পিন আক্রমণের এক নতুন ধারার জানান দিল। সুথার টি২০ ক্রিকেটের চাহিদা থেকে এখনো মুক্ত, তার বোলিং অ্যাকশনে যে সাবলীলতা ও লাফানোর ভঙ্গি দেখা যায়, তা যেন এক পুরোনো ঘরানার ক্রিকেটের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।
গলে টেস্টের তৃতীয় দিনে এই দুই বাঁহাতি স্পিনার মিলে মোট ৪২.৫ ওভারের মধ্যে ৭৯.৪ ওভারের স্পিন আক্রমণের বড় অংশ সামলেছেন এবং সাতটি উইকেট তুলে নিয়েছেন। জাদেজা যেখানে ব্যাটারদের দ্রুত চাপে ফেলে দেন, সেখানে সুথার নিজের বোলিংয়ে ব্যাটারদের কিছুটা অপেক্ষায় রাখেন। গলে সকালের উজ্জ্বল আলোয় অষ্টম ওভারে বল করতে এসে সুথার শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ জানান, যার মধ্যে এমন ব্যাটারও ছিলেন যিনি এই ভেন্যুতেই ১৬২* রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সুথার তার প্রথম ওভারেই ৮৭ ওভারের স্পিন বোলিংয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় টার্ন তৈরি করেছিলেন, যা দিনেশ চান্দিমালকে পরাস্ত করে ক্যাচ আউটে বাধ্য করে।
লাহিরু উদারার উইকেটটিও ছিল সুথারের দক্ষতার প্রমাণ, যিনি তার বিপক্ষে ১৬টি বল মোকাবিলা করেছিলেন। এছাড়া ৪০ মিনিটের বেশি সময় ধরে সোনাল দিনুশা ও নিরোশান ডিকওয়েলাকে চাপে রেখেছিলেন এই জুটি। পুরো দিনজুড়ে বল নরম হয়ে এলেও সুথার তার লাইন ও লেংথের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন। সেশন অনুযায়ী সুথার ৮৮.৮৩ কিমি/ঘণ্টা ও ৮৬.৮৫ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বল করেছেন, যেখানে জাদেজার গতি ছিল ৯০.২০ ও ৯০.৭২ কিমি/ঘণ্টা।
রবীন্দ্র জাদেজা ভারতীয় দলের বর্তমান স্পিন আক্রমণের মেরুদণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গলে টেস্টের শেষ সেশনে কেশারা নুওয়ানথার উইকেটটি তুলে নেওয়ার মাধ্যমে জাদেজা টেস্ট ক্রিকেটে ৩৫০ উইকেট ও ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখালেন। ১৭ বছর বয়সে অভিষেক হওয়া সুথার নিজেও স্বীকার করেছেন যে জাদেজার কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। ভারতের স্পিন আক্রমণের ভবিষ্যৎ হিসেবে সুথার নিজেকে গড়ে তুলছেন এবং জাদেজার সান্নিধ্য তাকে আরও অভিজ্ঞ করে তুলছে।





























