বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি বা যান্ত্রিক শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতার দাবি করেছে পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমি (আরডিএ)। এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ মাত্র এক টাকা ৫০ পয়সা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত রোববার এরুলিয়ার বানদীঘি এলাকায় অবস্থিত পরীক্ষামূলক প্লান্টে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়। সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দুটি পাম্প ও একটি ওয়েল্ডিং মেশিন সফলভাবে চালানো হয়। বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক ওইদিন প্লান্টটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক জানান, প্রচলিত সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যেখানে ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়, সেখানে ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে মাত্র ২৫ কোটি টাকা খরচে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। ২০০৪ সাল থেকে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হলেও ২০১০ সালের পর গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং জলবায়ু ট্রাস্টের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় যুক্ত আরডিএর উপপরিচালক ও কৃষিবিদ প্রকৌশলী ড. মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সাল থেকে প্রযুক্তিটি নিয়ে তাদের ব্যাপক গবেষণা চলছে এবং ২০২৫ সাল থেকে এর কার্যক্রম বড় পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির সহায়তা পেলে এই স্বল্পমূল্যের বিদ্যুৎ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
প্লান্টের কার্যকারিতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রযুক্তিটিকে বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা গেলে স্থানীয় মেশিনারি শিল্পে বিপ্লব ঘটার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব নতুন বিকল্প তৈরি হবে।






























