বিখ্যাত র্যাপার টুপাক শাকুর হত্যার প্রায় ৩০ বছর পর আমেরিকার অন্যতম প্রতীক্ষিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার লাস ভেগাসের আদালতে প্রসিকিউটর বিনু পিলাল জুরিদের জানান, গ্যাং প্রতিশোধের অংশ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল এবং এর নির্দেশদাতা ডোয়াইন 'কেফে ডি' ডেভিস পরবর্তীতে নিজেই এই অপরাধের কথা গর্ব করে প্রচার করেছিলেন।
প্রসিকিউটর পিলালের ভাষ্যমতে, ১৯৯০-এর দশকে লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্যাং 'সাউথ সাইড কম্পটন ক্রিপস'-এর অন্যতম নেতা ছিলেন ৬৩ বছর বয়সী ডোয়াইন ডেভিস। ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর টুপাক শাকুর প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে ডেভিসের ভাতিজা অরল্যান্ডো অ্যান্ডারসনকে মারধর করেন। এর মাত্র আড়াই ঘণ্টা পর, একটি সাদা ক্যাডিল্যাক গাড়ি থেকে চালানো গুলিতে টুপাক নিহত হন। প্রসিকিউটরের দাবি, ডেভিস নিজে গুলি না চালালেও গাড়ির পেছনের আসনে বসা ব্যক্তিকে অস্ত্র দিয়ে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পিলাল আরও জানান, ডেভিস অতীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গণমাধ্যম এবং নিজের আত্মজীবনীতে একাধিকবার এই হত্যাকাণ্ডে নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জুরিদের বলেন, 'ডেভিস বারবার তার ক্ষোভ এবং টুপাক শাকুরকে হত্যার পেছনে নিজের ভূমিকার কথা বলেছেন। এখন প্রায় ৩০ বছর পর আমরা তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।'
অভিযুক্ত ডেভিস অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা হত্যাসহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। তার আইনজীবী মাইকেল সানফট দাবি করেছেন, ডেভিসকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনো বাস্তব প্রমাণ প্রসিকিউটরের কাছে নেই। তিনি এই তদন্তকে বিভ্রান্তিকর এবং অস্পষ্ট বলে অভিহিত করেছেন।
টুপাক শাকুরের মৃত্যু আমেরিকার অন্যতম আলোচিত 'কোল্ড কেস' হিসেবে পরিচিত। মাত্র ২৫ বছর বয়সে নিহত এই র্যাপার ছিলেন তৎকালীন হিপ-হপ জগতের পূর্ব উপকূল বনাম পশ্চিম উপকূলের দ্বন্দ্বে অন্যতম প্রধান চরিত্র। সেই সময় ডেথ রো রেকর্ডস এবং ব্যাড বয় রেকর্ডসের মধ্যে তীব্র রেষারেষি ছিল। তদন্তকারীদের দীর্ঘদিনের ধারণা, ১৯৯৭ সালের মার্চে ক্রিস্টোফার 'দ্য নটরিয়াস বি.আই.জি' ওয়ালেসের হত্যাকাণ্ড ছিল টুপাক হত্যার প্রতিশোধ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ডেথ রো রেকর্ডসকে সুরক্ষা দিত 'মব পিরু' গ্যাং, যার সাথে সুজ নাইট যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে ব্যাড বয় রেকর্ডস দেহরক্ষী হিসেবে ডেভিসের নেতৃত্বাধীন ক্রিপস গ্যাংকে নিয়োগ করেছিল। ঘটনার রাতে মাইক টাইসনের বক্সিং ম্যাচ দেখে বের হওয়ার সময় টুপাক এবং নাইট ডেভিসের ভাতিজাকে মারধর করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত টুপাকের প্রাণঘাতী পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় প্রমাণের অভাবে ঝুলে থাকা এই মামলাটি ২০১৯ সালে ডেভিসের স্মৃতিকথা প্রকাশের পর নতুন মোড় নেয়। যদিও ডেভিস পরবর্তী সময়ে দাবি করেছেন যে, বইয়ের বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘোস্টরাইটারের সহায়তায় তিনি ওইসব কথা বানিয়ে বলেছিলেন।





























