ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বে যেন এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একসময় যাদের সফরকে ‘বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক’ বলে ফিরিয়ে দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ), আজ তাদের ম্যাচ দেখতেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন দর্শকেরা। আগামী ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের সব টিকিট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। ডারউইনের প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের বিশাল জয়ের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন বাংলাদেশ দল।
অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ২০০৩ সালের পর ২০১৮ সালে দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সে সময় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সফরটি বাতিল করে দেয়। সিএ দাবি করেছিল, বাংলাদেশ দলের সফরটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয় এবং সম্প্রচারকারীদের আকৃষ্ট করার মতো যথেষ্ট দর্শকপ্রিয়তা তাদের নেই।
বিসিবির তৎকালীন পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বর্তমান পরিস্থিতির এই নাটকীয় পরিবর্তনে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ২০১৮ সালের সেই স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, সে সময় আমাদের দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা স্থগিত করা হয় কারণ তাদের ফ্রি-টু-এয়ার ব্রডকাস্টাররা সে সময় ফুটবলে বেশি মনোযোগ দিচ্ছিল এবং ক্রিকেট সিরিজটি সম্প্রচারে তাদের কোনো আগ্রহ ছিল না। তবে এখন দিন পুরোপুরি বদলে গেছে এবং সেই দুঃসময় কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারও একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। দলের সাথে ম্যাকাইয়ে থাকা বাশার প্রথম টেস্টের টিকিট বিক্রির অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, প্রথম টেস্টের ৮০ শতাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়েছিল এবং চতুর্থ দিনে এসে তা ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মূলত চতুর্থ দিনে এসে সব টিকিটই শেষ হয়ে গিয়েছিল। হয়তো স্থানীয় দর্শকরা প্রথমে ভেবেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনা কম, তাই তারা মাঠে আসেননি। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শেষ দিকে সবাই টিকিট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন।
অস্ট্রেলীয়দের এই ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার দারুণ এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন হাবিবুল বাশার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের আমন্ত্রণে আমরা যখন একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজে যাই, সেখানে উপস্থিত সব অস্ট্রেলীয় দাঁড়িয়ে আমাদের হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। এমন অভিজ্ঞতা আমার জীবনে আগে কখনো হয়নি। এমনকি বিমানবন্দরে যাওয়ার পর লাউঞ্জ বা নিচে যেখানেই গেছি, সবাই এসে আমাদের প্রশংসা করেছে।
তবে এই উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা ধরে রাখার বড় পরীক্ষা এখন ম্যাকাই টেস্টে। ডারউইনের জয় যে কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, তা প্রমাণ করাই এখন নাজমুল হোসেন শান্তদের মূল লক্ষ্য। তবে হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, দল অতীত নিয়ে মেতে থাকতে রাজি নয়। প্রথম টেস্টের জয় এখন ইতিহাস এবং সবাই এখন পরবর্তী টেস্ট নিয়ে ভাবছে।
এই জয়কে বিশ্বমঞ্চে দর কষাকষির বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, আগামী মাসে এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম) সভা রয়েছে। এই ঐতিহাসিক জয়টি অন্য বড় দলগুলোর সাথে আলোচনায় আমাদের অনেক সাহায্য করবে। আমরা এফটিপিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ আদায় করতে কাজ করব।




























